উম্মু সুআদ।।
বইমেলা ২০২২-এ প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক সাঈদ হোসাইনের গবেষণাধর্মী বই ‘ইতিহাসের অন্তরালে: ভাষা আন্দোলনে আলেমসমাজের ভূমিকা’।
‘এদেশের ভাষা আন্দোলনের দুটি পর্যায় রয়েছে। প্রথম পর্যায় ১৯৪৭-‘৪৮ সালের আন্দোলন। দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্দোলন হল ১৯৫২ সালের গণ আন্দোলন। এ দুটি পর্যায় নিয়েই সামগ্রিকভাবে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস। আলেমসমাজ ভাষা আন্দোলনের উভয় পর্যায়েই সমানভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শ্রম-সাধনা ছিল এই আন্দোলনে। জেল-জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন সত্ত্বেও জালিমের রক্তচক্ষু সামান্য টলাতে পারেনি তাদের। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রশ্নে তারা ছিলেন অটল, অবিচল।
সেই আলেমসমাজই যখন ভাষাবিরোধী হিসেবে চিত্রিত হয়, তখন সঙ্গত কারণে আমরা ব্যথিত ও ক্রোধান্বিত হই। এই ব্যথা ও ক্রোধই নিজেদের হারানো ইতিহাসকে স্ববলে হাজির করার প্রয়াসে নিরত হতে বাধ্য করে আমাকে। এই প্রচেষ্টারই ফসল ’ইতিহাসের অন্তরালে: ভাষা আন্দোলনে আলেমসমাজের ভূমিকা’ নামক এই বই। অনস্বীকার্য তথ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে এ বই সাব্যস্ত করেছে, ভাষা আন্দোলনের পক্ষে অন্যতম প্রধান শক্তি হচ্ছেন এদেশের আলেমসমাজ।
এ বইয়ে বিবৃত অমোঘ সত্যকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এখানে অনুমাননির্ভর কিংবা শোনা কথার ভিত্তিতে ইতিহাস লেখা হয়নি। বরং এমন সব ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাকে অগ্রাহ্য করা অসম্ভব। এতকাল ধরে যে সত্য ছিল সবার অগোচরে, এ বই সেই চরম সত্যকে উন্মোচন করেছে আপন শক্তিতে। আমরা আশা করি, এ বই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসচর্চার মোড় ঘুরিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।
এ বইয়ে ভাষা আন্দোলনে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন এমন বহু আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদের কথা এসেছে। এছাড়াও ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে উপমহাদেশের শীর্ষ আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদদের মন্তব্য রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ., মাওলানা আবুল কালাম আজাদ রহ., মাওলানা জফর আহমদ উসমানী রহ. ও ডা. ইসরার আহমদ রহ. প্রমুখ।
বইটি সম্পর্কে বিশিষ্টজনদের মন্তব্য—
একটা মিথ্যা প্রচার চালু রয়েছে যে বাংলাভাষী আলেম ওলামারা তাদের মাতৃভাষা নয় বরং আরবি ফারসি উর্দুর পক্ষপাতি। এই অনুমান থে