।।সাইফুল ইসলাম রিয়াদ।।
আসমানি ধর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ইসলাম। এ ধর্মের আবশ্যকীয় দায়িত্বের একটি হল দীনি দাওয়াতের প্রচার-প্রসার করা। দাওয়াতি এ মেহনত নির্দিষ্ট কোনো এলাকা, বংশ, পরিবার বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরো পৃথিবীর জন্য। কেয়ামত পর্যন্ত ইসলামের পরিধি বিস্তৃত হবে ক্রমাগত। ছেঁয়ে যাবে পৃথিবীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ পাকের ইরশাদ-
قُلْ يايهاالناس انى رسول الله اليكم جميعا
‘আপনি বলুন, হে লোক সকল! আমি সমগ্র মানব জাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসুল।’ [সুরা আ’রাফ:১৫৮]
আল্লাহ প্রদত্ত মানব জাতির জন্য পাঠানো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তির দায়িত্ব ছিল সর্বদিক ব্যাপৃত। কোনো বিশেষ এলাকা, গোত্র বা সময়ের সাথে বেধে দেননি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের ব্যাপকতা। এটা হল ইসলামের বুনিয়াদি পদ্ধতি।
দাওয়াতে আরেকটি দিক হল, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু মানুষের নবী ছিলেন না, বরং জীনদেরও নবী ছিলেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন-
تبارك الذى نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرا
‘বরকতময় তিনি, যিনি তার বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ (কুরআন) নাযিল করেছেন; যাতে তিনি গোঠা জগতের জন্য সতর্ককারী হোন।’ [সুরা ফুরকান:০১]
এখানে عالمين শব্দটির দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মানুষ ও জীন সম্প্রদায়। জীন স্বতন্ত্র এক জাতি। জীন এবং মানুষ হল মুকাল্লাফ সৃষ্টি। মুকাল্লাফ বলা হয়, যাদের উপর শরিয়তের বিধি-নিষেধ আরোপিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে মানুষের নবী, তেমনিভাবে জীনদেরও নবী। তারাও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত। কুরআনের ভাষ্য-
قل اوحى الى انه استمع نفر من الجن فقالوا انا سمعنا قراناعجبا
يهدى الى الرشد فامنا به ولن نشرك بربنا احدا
‘বলুন! আমার প্রতি ওহি নাযিল করা হয়েছে যে, জীনদের একটি দল তা শুনেছে এবং বলেছে, নিশ্চয় আমরা বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি! যা সৎ পথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা এতে বিশ্বাস এনেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরিক করব না।’
[সুরা জীন:১-২]
এই আয়াত নাযিলের পেছনে রয়েছে চমৎকার পটভূমি। তা হলো-
একদিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বাইরে সফরে বেরিয়েছেন। ক’জন সাহাবি ছিলেন তার ভ্রমণসঙ্গী। সফররত অবস্থায় ফজর নামাযের ওয়াক্ত চলে আসে। তিনি সাহাবিদের নিয়ে খোলা ময়দানে নাম