সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


ছোটবেলায় রোজার মাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাইফুল্লাহ সুবহান।।

আমার যখন ছোটবেলা রোজায় তখন কনকনে শীত পড়ে। রোজা শুরুর আগেই মা শীতের কাপড় চোপড় ধুয়ে দেন। রোদে দেন লেপ কাঁথা।

রোজার দুএকদিন আগে বাবা ব্যগভর্তি রোজার বাজার নিয়ে আসেন। মুড়ি, বুট, গুড়, চিড়া, ডাল আর খেজুর। তেমন আহামরি কিছু না। তবু এসব নিয়েই আমাদের ভাইবোনের অন্তহীন উচ্ছাস। সবকিছু ব্যগ থেকে নামাই। নেড়েচেড়ে দেখি।

রোজার আগে আগেই একদিন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। সামনে অফুরন্ত ছুটি। সীমাহীন স্বাধীনতা। এই সুযোগে যাই নানাবাড়ি। নানাবাড়িই আমাদের ছোটবেলার প্রথম এবং একমাত্র ট্যুর স্পট। মা আমাদের সাথে যান না। মায়ের তখন অনেক ব্যস্ততা। রোজা আর শীতের প্রস্তুতি মিলে একাকার। দুদিন নানাবাড়ি বেড়িয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

স্কুল ছুটি থাকলে ব্যস্ততা বেড়ে যায় আমাদেরও। হেমন্তের ফসল তোলা হয়ে গেলে কেউ কেউ শীতের রবি শষ্য চাষে মনোযোগি হন। তবে অধিকাংশ ফসলি জমিই খালি পড়ে থাকে। গ্রামের ভাষায় এগুলোর নাম 'খিলক্ষেত'। এই 'খিলক্ষেত' ঘিরেই আমাদের সারাদিনের ব্যস্ততা। এই ক্ষেতই এখন আমাদের খেলার মাঠ। আমাদের চেয়ে বয়সে বড়রা কেউ কেউ এখানে ফুটবল ক্রিকেট খেলে। এসবে আমাদের আগ্রহ বা অধিকার কোনটাই নেই। আমরা দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌ ছি, কানা মাছি ভোঁ ভোঁ ইত্যাদি গ্রামীণ খেলায় মেতে দিন কাটিয়ে দেই।

একদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখি উঠোনে খেজুর পাতার স্তুপ। বুঝতে পারি সকাল সকাল গাছি এসেছে খেজুর গাছ 'ছোলতে'। গাছিকে আমরা বলি 'গাছ ছুলুইননা'। কেউ বলে 'শিউলি'। মুখ হাত না ধুয়েই দেই ছুট 'গাছি'র খোঁজে। ততক্ষণে অনেকগুলো গাছ 'ছোলা' শেষ। আর দুতিনটা মাত্র বাকি। এগুলো যতক্ষণ ছোলা না হয় গাছির পাছ পাছ থাকি। অবাক হয়ে তার হাতের কাজ দেখি। চকচকে একটা 'দা' (আমরা বলি 'ছেন') দিয়ে কি শিল্পিত উপায়ে তিনি গাছ কাটেন! শুষ্ক গাছে বইয়ে দেন সুমিষ্ট রসের ফোয়ারা। গাছ কাটা হয়ে গেলে গাছিকে বলে কয়ে একটা খেজুর ডালের লাঙ্গল বানিয়ে রাখি। কখনো আব্বাই বানিয়ে দেন। এই 'খেজুর ডালের লাঙ্গল' আমাদের ছোটবেলার বিনামূল্যের অমূল্য খেলনা।

সপ্তাহ দুয়েক পরে গাছে হাঁড়ি ঝোলে। বিকাল বেলা গাছি আসে গাছে হাঁড়ি দিতে। অদ্ভুত কায়দায় কোমরে হাড়ি ঝুলিয়ে তরতর করে গাছে ওঠে যান তিনি। গাছে হাঁড়ি দিয়ে আগের মতোই তরতরিয়ে নেমে আসেন। ভোরের আলো ফুটতেই আবার তার দেখা মেলে। গাছ থেকে রস ভর্তি হাঁড়ি নামিয়ে আনেন। এই দুই সময় আমরা সমবয়সী বন্ধুরা প্রায় তার সাথে গাছতলায় গাছতলায় ঘুরে বেড়াই।

গাছি সকাল বেলা হাঁড়ি নামিয়ে নিলেও গাছ থেকে রস পড়ে সারাদিনই। আমরা গাছের গোঁড়ায় গিয়ে হাঁ করে দাঁড়াই। ফোঁটা à