।।কাউসার লাবীব।।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও আদর্শ মানুষ গঠনের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখছে দেওবন্দি চেতনায় গড়ে ওঠা কওমি মাদরাসাগুলো। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সিলেবাসে একজন ছাত্র দাওরায়ে হাদিস কমপ্লিট করার পর নিতে হয় বড় একটি সিদ্ধান্ত। কেউ বেছে নেয় খেদমত বা ব্যবসা-বানিজ্যসহ নানা পথ। মেধা ও ফুরসত কুলালে কেউ নিজেকে আরো দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য ভর্তি হয় উচ্চতর শিক্ষার সৌরভময় উদ্যান তাখাসসুস বিভাগে; যে বিভাগগুলো জাতিকে উপহার দেয় একেকজন গবেষক ও চিন্তক আলেম।
তবে সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন কারণে ক্রমেই এ তাখাসসুস বিভাগগুলো আস্থা হারাতে বসেছে। বিশেষ করে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইফতা ও আদব বিভাগগুলো চিন্তায় ফেলে দিচ্ছে দেশের চিন্তক শিক্ষাবিদদের। তাছাড়া বিভিন্ন জটিলতায় অবহেলিত হচ্ছে ‘আদদাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ বিভাগ। আসলে মুমিন জীবনে দাওয়াহ মহান এক অধ্যায়। নতুন যারা তাখাসসুস বিভাগে ভর্তি হবে তারা কেন ‘আদদাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ বিভাগ’কে বেছে নেবে? তাছাড়া চলমান দাওয়াহ বিভাগগুলোর মানোন্নায়নে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে? এসব বিষয়ে কথা বলেছিলাম ইসলামিক স্কলার প্রথিতযশা দাঈ মুফতি আব্দুল মাজিদ-এর সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘একজন আলেমের নূন্যতম একটি দায়িত্ব হলো আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ। তাঁর প্রজ্ঞাময় দাওয়াহ’র ছোয়ায় মানুষ দিশা পাবে সঠিক ও সুন্দর পথের। তাই অন্যান্য তাখাসসুসের বিভাগের চেয়ে ‘আদ-দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ’ বিভাগের গুরুত্ব কোনো অংশেই কম নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনুল কারীমের মধ্যে যেমনিভাবে নামাজের আদেশ করেছেন, তেমনিভাবে ‘আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ’র আদেশ করেছেন। তাই নামাজ যেহেতু আল্লাহ তাআলার আদেশের জন্য ফরজ, সেই হিসেবে ‘দাওয়াহ’ও একই কারণে ফরজ বলা যায়।’
‘নামাজের মাসায়েল না জেনে কেউ নামাজ পড়তে দাঁড়ালে সে যেমন চরম জটিলতায় পড়বে; এমনকি কখনো কখনো নামাজ ভেঙেও যেতে পারে। ঠিক দাওয়াহ’র ক্ষেত্রেও একই রকম। সঠিক নিয়ম-নীতি না জেনে এ পথে কাজ করতে নামলে কঠিন থেকে কঠিনতর জটিলতায় পড়তে হবে। তবে একটি বিষয় হলো, একজন আলেম দাওয়াহ’র জন্য আলাদা করে নিয়ম করে বা আয়োজন করে কাজ করতে হবে বিষয়টি এরকম নয়। তার চলাফেরা, কথাবার্তা, লেনদেন ও বিচার-বিশ্লেষণ সবই দাওয়াহ’র অংশ। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়ার সময়ই অত্যন্ত প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে চলতে হবে। নায়েবে রাসুল হিসেবà§