সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


শাওয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল ‘বিয়ে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী: শাওয়াল হিজরি বছরের দশম মাস, এটি হজের তিন মাসের প্রথম মাস, যার প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতরের নামাজ ও সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এ মাসে সংশ্লিষ্ট রয়েছে হজের মাস এবং তার আগে পবিত্র রমজানুল মুবারক।

যাতে রয়েছে এক মাস পূর্ণাঙ্গ সিয়াম সাধনা, সদকা, জাকাত ও বরকতময় লাইলাতুল কদরসহ দিনরাতের নির্ধারিত ইবাদত। শাওয়াল আরবি শব্দ, যার অর্থ উঁচু করা, উন্নত করা, পূর্ণতায় পৌঁছে দেওয়া, পরিপক্বতা ও স্থিতি লাভ করা। একে শাওয়ালুল মুকাররম বলা হয়। এ মাসে বিশেষ চারটি আমল রয়েছে।

প্রথম আমল : রমজানুল মুবারকের ছুটে যাওয়া রোজা সবার আগে এ মাসেই কাজা আদায় করে নেওয়া।

দ্বিতীয় আমল : শাওয়ালের ছয়টি রোজা। কেননা প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালনের পর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল এবং সে পরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ)

ইবনে রজব (রহ.) বলেন, শাওয়ালের রোজা রাখার তাৎপর্য অনেক। রমজানের পর শাওয়ালের রোজা রাখা রমজানের রোজা কবুল হওয়ার আলামতস্বরূপ। কেননা আল্লাহ কোনো বান্দার আমল কবুল করলে তাকে পরেও অনুরূপ আমল করার তৌফিক দেন। নেক আমলের প্রতিদান বিভিন্ন রূপ। তার একটি হলো পুনরায় নেক আমল করার সৌভাগ্য অর্জন করা।

তাই নামাজ-রোজার আমলগুলো অন্যান্য মাসেও চালু রাখা চাই। যা একমাত্র শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার দ্বারাই সম্ভব। তবে ইবাদতের মোকাবিলায় সারা বছর সব রকমের গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। কেননা এতে নাফরমানি ও অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর শাওয়ালের ছয় রোজা দুই মাসের সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা। যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে শাওয়ালের ছয় রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা রাখার সমতুল্য।’ (আহমদ, দারেমি)

তৃতীয় আমল : শাওয়ালে বিয়ে করা। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, শাওয়ালে বিয়ে করা সুন্নত। শুক্রবার জামে মসজিদে ও বড় মজলিসে বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া সুন্নত। কারণ আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে শাওয়ালের শুক্রবারে মসজিদে নববিতে হয়েছিল। বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

এ সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যখন বিয়ে করল তখন তার দীনদারি অর্ধেক পূর্ণ হয়ে গেল, অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করতে থাকে।’ (মিশকà¦