আওয়ার ইসলাম: রমজান মাস। এ মাসে জাকাত আদায় করেন ধনীরা। জাকাত আদায় করা ইসলামের একটি ফরজ বিধান। যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্বেরও একটি। তাই প্রত্যেক ঈমানদারের কর্তব্য এর বিধিবিধান স্পষ্ট জানা এবং তদনুযায়ী আমল করা। যে সব সম্পত্তির ওপর জাকাত ফরজ হয় এর বিবরণ দেওয়া হলো,
১. ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্য ও ফলফলাদি
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মোমিনরা! তোমরা তোমাদের বৈধ উপার্জন এবং তোমাদের জন্য ভূমি থেকে যে শস্য উৎপন্ন করি তা থেকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করো।’ (সূরা বাকারা : ২৬৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আসমান ও ঝরনার পানিতে কিংবা স্বেচ্ছা উৎপাদিত ফসলের মধ্যে এক দশমাংশ আর যা সেচের মাধ্যমে আবাদ হয় তার মধ্যে ২০ ভাগের এক ভাগ জাকাত প্রদেয়।’ (বোখারি : ১৪৮৩)।
ফসলের ওপর জাকাত ফরজ হওয়ার নির্ধারিত পরিমাণ হলো পাঁচ ওসক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শস্য বা ফলমূলের ওপর জাকাত ফরজ হবে না। যতক্ষণ তা পাঁচ ওসক পরিমাণ না হয়।’ (মুসলিম : ৯৭৯)।
আর ওসকের পরিমাণ হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর ব্যবহৃত সা’য়ের ৬০ সা’ সমপরিমাণ। তাহলে নিসাব হলো, ৩০০ সা’, আর এক সা’র পরিমাণ হলো ২ হাজার ৪০ গ্রাম (দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম)। সুতরাং নিসাবের পরিমাণ দাঁড়াল ৬১২ কেজি। তাই এর কমে জাকাত ফরজ নয়। ওই নিসাবে বিনাশ্রমে প্রাপ্ত ফসলের জাকাতের পরিমাণ হলো এক দশমাংশ আর শ্রম ব্যয়ে প্রাপ্ত ফসলের এক বিশমাংশ।
ফলমূল, শাকসবজি, তরমুজ ও জাতীয় ফসলের ওপর জাকাত ফরজ নয়। ওমর (রা.) বলেন, ‘শাকসবজিতে জাকাত নেই’। আলী (রা.) বলেন, ‘আপেল বা এ জাতীয় ফলের ওপর জাকাত ফরজ নয়। তাছাড়া যেহেতু এগুলো (নিত্যপ্রয়োজনীয়) খাবার, জাতীয় শস্য বা ফল নয়, তাই এর ওপর জাকাত নেই। তবে যদি এসব টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় তাহলে মূল্যের ওপর নিসাব পূর্ণ হয়ে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর জাকাত ফরজ হবে।
২. গবাদি পশু
উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের জাকাত ফরজ। যদি এসব প্রাণী ‘সায়েমা’ হয় তথা মাঠে চরে চষে খায় এবং এগুলোকে বংশ বৃদ্ধির জন্য পালন করা হয় এবং তা নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এদের জাকাত দিতে হবে। উটের নিসাব ন্যূনতম ৫টি, গরুর ৩০টি আর ছাগলের ৪০টি।
‘সায়েমা’ ওই সব প্রাণীকে বলে, যেগুলো সারা বছর বা বছরের অধিকাংশ সময় চারণভূমিতে ঘাস খেয়ে বেড়ায়। যদি এসব প্রাণী সায়েমা না হয়, তবে এর ওপর জাকাত ফরজ নয়। কিন্তু যদি এগুলো দ্বারা টাকা-পয়সা কামাই করার উদ্দেশ্য থাকে; যেমন, বেচাকেনা, স্থানান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে টাকা-পয়সা আয় করা, তাহলে তা ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তখন সেগুলো সায়েমা কিংবা মা’লুফাহ (যাকে ঘাস কেটে খাওয়ানো হয়) যা-ই হোক না কেন তাতে ব্যবসায়িক পণ্যের জাকাত আসবে; যদি তা এককভাবে নিসাব পরিমাণ হয় অথবা এসবের মূল্য অন্য ব্যবসায়িক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত à¦