সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


সংসার বনাম ইবাদাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।। মাহমুদা খাতুন তামান্না ।।

নিয়তের শুদ্ধতায় আপনার প্রতিটি মূহুর্ত ব্যয় হবে ইবাদাতে। নেই জায়নামাজে বসে থাকার শর্ত । লাগবে না আলাদা সময়। সাংসারিক কাজে ব্যস্ত তবুও আমলনামায় সম্মানিত ফিরিশতা লিখতে থাকবেন পূণ্যের ফিরিস্তি। ব্যাপারটা খুব আনন্দদায়ক না?
আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রতিটি কাজই পূণ্যের খাতায় জমা হয়।

একটি ঘরে জানালা অত্যাবশকীয়। অথচ আপনি যদি নিয়ত করেন, জানালা দিয়ে আসা দিনের আলোবাতাসে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবেন, বাবা মাকে দেখে কবুল হজ্জ করবেন তাহলে সেই জানালা বানানোও হবে পূণ্য। এটাই নিয়তের মর্যাদা ।

হাদীস শরিফে এসেছে,

إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته لدنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، فهجرته إلى ما هاجر إليه. رواه البخاري ومسلم

অর্থ, সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভ অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য। (বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং আপনি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাংসারিক কাজ করেন তাহলে অবশ্যই তার সওয়াব পাবেন। যেমন সাহাবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম নিজেদের কাজ করতেন।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাঁর ঘরের যাবতীয় কাজ নিজে করতেন

আটা কুটতেন নিজেই। [বুখারী শরীফ]

খামির নিজে বানাতেন। রুটি বানাতেন নিজে। রান্না করতেন নিজেই। [বুখারী, আবূ দাউদ]

বিছানা বিছাতেন নিজে। [শামায়েলে তিরমিযী]

অযুর পানি নিজেই আনতেন। [মুসনাদে আহমাদ]

প্রিয় নবীজি (সা) কুরবানির জন্য যে উট পাঠাতেন, সেটার দেখাশুনাও নিজেই করতেন। [বুখারী-হজ্জ অধ্যায়]

তিনি প্রিয় নবীজির (সা) মাথাও আঁচড়ে দিতেন।[বুখারীঃ ই’তিকাফ অধ্যায় ]

প্রিয় নবীজির (সা) শরীরে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন। [বুখারীঃ হজ্ব অধ্যায়]

প্রিয় নবীজির (সা) কাপড় ধুয়ে দিতেন। [বুখারীঃ গোসল অধ্যায়]

শোয়ার পূর্বে নবীজির (সা) মিসওয়াক ও পানি ঠিক করে দিতেন। [মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৫৪].

নবীজির (সা) মিসওয়াক পরিষ্কার করে দিতেন। [আবূ দাউদঃ তাহারাত অধ্যায়]
.
আম্মাজান আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা’র ঘরে কোনো মেহমান এলে তার আপ্যায়ন করতেন। [আবু দাঊদ শরীফ- শিষ্টাচার অধ্যায়]

সন্তান লালনপালন করার সওয়াব জান্নাত পাওয়ার জন্য যথেষ্ট।

হাদিসে এসেছে, এক নারী তার দুটি সন্তানসহ প্রিয় নবীর (সা) কাছে আসে। সে একটি সন্তানকে কোলে এবং অপরটিকে হাতে ধরে নিয়ে আসে। নবীজি (সা) বলেন, গর্ভধারিণী, সন্তান জন্মদানকারিণী এবং সন্তানের প্রতি মমতাময়ী তারা যদি স্বামীদের কষ্ট না দেয়, তবে তাদের মধ্যে যারা নামাজি তারা জান্নাতে যাবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ)

গম পেষার কারণে প্রিয় নবীজির আদরের কন্যা ফাতিমার (রা) হাতে ফোস্কা পরে যায়।। তিনি পিতার কাছে খাদেম চাইলেন