সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


বেহেশতের উচ্চস্থান লাভের নিশ্চয়তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মুফতি রফিকুল ইসলাম আল মাদানি ||

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’র সাহাবিরা জানতেন নামাজ সর্বোত্তম ইবাদত। তাঁরা জানতেন রোজা ও দান-সদকা শ্রেষ্ঠ ফজিলতের কাজ। তাই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বললেন, ‘আমি কি তোমাদের নামাজ, রোজা ও দান-সদকা অপেক্ষা উচ্চ ফজিলতপূর্ণ মহৎ কাজের সুসংবাদ দেব না? তাঁরা বললেন, অবশ্যই! তিনি বললেন, পরস্পর মীমাংসা ও সন্ধিমূলক আচরণ হলো নামাজ, রোজা ও দান-সদকা থেকেও উচ্চমানের আমল। কেননা ঝগড়া-বিবাদ এবং বিচ্ছেদপূর্ণ আচরণ ও কলুষতা ধ্বংস টেনে আনে।’ (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ)

বিবাদ-বিচ্ছেদ ও যুদ্ধবিগ্রহ মূলত শয়তানি। ইসলাম ঝগড়া-বিবাদ ও কলুষতার সমর্থন দেয় না। সাম্য, মানবতা ও উদারতার প্রতীক এ ধর্ম। সুশৃঙ্খল ও সৌভ্রাতৃত্বপূর্ণ আচরণের শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। ঝগড়া-বিবাদ ও বিচ্ছেদপূর্ণ নীতি অসামাজিক। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক সংহতি, ঐক্য, সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে নেমে আসে অশান্তির কালো ছায়া। বাড়াবাড়ির ফলে বিস্তার ঘটে হানাহানি, খুন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির। ছড়াছড়ি হয় অনৈতিক আচরণ ও অশ্লীল কথার্বাতার মতো জঘন্যতম অপরাধের।

অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকারীকে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোনাফেক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ন্যায়সংগত কারণেও ঝগড়া -বিবাদ, যুদ্ধবিগ্রহ বর্জন করার প্রতি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উৎসাহিত করেছেন।

সাহাবি আবু উমামা আল বাহেলি রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি ওই ব্যক্তির জন্য বেহেশতের প্রাণকেন্দ্রে ঘরের জিম্মাদার, যে ন্যায্য অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও বিবাদ থেকে বিরত থাকে। আমি ওই ব্যক্তির জন্য বেহেশতের মধ্যস্থানে ঘরের জিম্মাদার, যে কৌতূহল অবস্থায়ও মিথ্যা বর্জন করে। আমি ওই ব্যক্তির জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থানে ঘরের জিম্মাদার, যার আচরণ হবে উত্তম।’ (আবু দাউদ)

আমিরুল মোমিনিন আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, ‘তোমাদের উচিত বিবাদ ও মতভেদ পরিহার করা। কেননা তা ভ্রাতৃত্বের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত করে এবং মোনাফেকি ও কপটতার সৃষ্টি করে।’ (উসুলে কাফি)

দুঃখজনক হলো, বর্তমানে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধংদেহী মনোভাব বিস্তার করছে। যারা শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবে