মাওলানা মুহাম্মাদ আবু সালেহ।।
উপবৃত্তি দেয়ার নামে প্রতারণা: একটি নম্বর থেকে এক ব্যক্তি জনৈক অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাকে কল দেন। ফোনকলে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। নামের শুরুতে প্রফেসর উপাধি ব্যবহারকারী উক্ত ব্যক্তি ফোনে বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষাবৃত্তির অর্থ প্রদানের প্রলোভন দেখান।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তিনি উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তার পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে অনেক তথ্য জেনে নেন। ছেলে মেয়ে বা নাতী নাতনীসহ পরিবারের সদস্য কতজন, বর্তমানে কে কোথায় আছেন, পড়াশোনা করছেন কে কে এবং কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন ইত্যাদি অনেক তথ্য জেনে নেয়ার চেষ্টা করেন প্রফেসর পরিচয়দানকারী শিক্ষা বোর্ডের তথাকথিত উক্ত কর্মকর্তা। একপর্যায়ে উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা নিজের বিকাশ একাউন্ট না থাকার কথা জানালে আত্মীয় স্বজন কিংবা আশেপাশের কারও বিকাশ নাম্বার দিতে বলেন সেই ব্যক্তি।
বিকাশে উপবৃত্তি দেয়ার নামে প্রতারকরা মোবাইল ফোনে যে মেসেজ পাঠিয়েছে তার নমুনা-প্রিয় শিক্ষার্থী!Coronavirus (COVID-19) এর কারণে তোমাদের উপবৃত্তির ৪,২০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। টাকা গ্রহনের জন্য নিম্নোক্ত শিক্ষাবোর্ডের নম্বরে যোগাযোগ করুন।
মোবাঃ 01825138999 অথবা গোপন নম্বর: ১৯৫৮ শিক্ষামন্ত্রী যোগাযোগের সময় সকাল ৯৩০ টা থেকে রাত ৯ টা পযন্ত।
কিছুক্ষণ পরে তার সাথে উক্ত অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তার একজন নিকটাত্মীয় অন্য একটি নাম্বার থেকে ফোন করে শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জন্য ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের নামে একাউন্ট থাকা সত্বেও তা বিকাশে কেন দেয়া হবে - এমন প্রশ্ন করলে তিনি রাগান্বিত হয়ে ওঠেন এবং হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। বেশি পন্ডিতি দেখানো ভালো না, বেশি বুঝতে গেলে সমস্যা হয় - ইত্যাদি অবান্তর কথাবার্তা বলে একপর্যায়ে দেখে নেয়ার ভয় দেখিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন।
এগুলো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, সমাজ বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি এখন: উপরে বর্ণিত ঘটনাটিকে আপাত দৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা মনে হলেও এটি আসলে নিছকই বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়; বরং বর্তমান সময়ের বাস্তবতা হিসেবেই এই জাতীয় ঘটনাগুলোকে স্বীকার না করার উপায় নেই। বলা যায়, এই ধরণের ঘটনা এখন অহরহ ঘটে চলেছে।