আবদুল কাইয়ুম শেখ।।
ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও কুরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামাদেরকে আল্লাহ তাআলা ইহ ও পরকালে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করবেন।
কুরআন শরিফে এসেছে, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার ও যারা প্রজ্ঞাবান আলেম আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন।’ (সুরা মুজাদালা, আয়াত : ১১) মহান আল্লাহ ইহকালেও আলেম-ওলামাগণকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন এবং পরকালেও তাদেরকে সম্মানজনক আসনে অধিষ্ঠিত করবেন।
আল্লাহ তাআলা আলেম-ওলামাগণকে দোজখের শাস্তি প্রদান করবেন না। তিনি পরকালে তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন ও জান্নাত দান করবেন। ‘হজরত আবু মুসা আশআরি রা. বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন বান্দাদেরকে উত্থিত করবেন।
এরপর ওলামায়ে কেরামকে সম্মান দিয়ে বলবেন, হে আলেম সম্প্রদায়! আমি তোমাদের মধ্যে আমার ইলম এ জন্য রাখি নি যে, তোমাদেরকে শাস্তি প্রদান করব। তোমরা যাও। আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম।’ (মুজামুল আওসাত, হাদিস : ৪২৬৪)
বিভিন্ন হাদিসে ওলামায়ে কেরামের মাহাত্ম্য, শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি হাদিসে ওলামা সম্প্রদায়কে মোমবাতির মত কল্যাণকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মোমবাতি যেমনিভাবে নিজে জ্বলতে জ্বলতে অন্যকে আলো দান করে ঠিক তেমনি ভাবে ওলামায়ে কেরাম চেষ্টা, পরিশ্রম ও মুজাহাদার মাধ্যমে উম্মতের লোকদেরকে ইসলামের নির্দেশনা অবহিত করে তাদেরকে সঠিক পথে আনয়ন করার চেষ্টা করেন।
তাদের উদাহরণ কল্যাণকর প্রদীপ তুল্য। প্রদীপ যেমন অন্যদেরকে আলো দান করে ঠিক তেমনিভাবে ওলামায়ে কেরাম অন্যদেরকে ইসলামের আলো প্রদান করেন। হজরত জুনদুব রা. বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এমন আলেম ব্যক্তি যে মানুষকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দেয় এবং নিজের কথা ভুলে যায় তার উদাহরণ হল এমন প্রদীপের মতো যে নিজে জ্বলতে জ্বলতে অন্যকে আলো দান করে।’ (মুজামে কাবির-তাবারানি, হাদিস : ১৬৮১)
অন্য আরেকটি হাদিসে আলেম-ওলামাগণকে এমন উপকারী বৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে যার মাধ্যমে ঘাস-পাতা, তরু-লতা, ফুল ও ফল উৎপন্ন হয়। হজরত আবু মুসা রা. বলেন, মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে যে হেদায়েত ও ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো জমিনের উপর পতিত প্রবল বর্ষণের ন্যায়। কোন কোন ভূমি থাকে উর্বর যা সে পানি শুষে নিয়ে প্রচুর পরিমাণে ঘাসপাতা এবং সবুজ তরুলতা উৎপাদà¦