মুফতি গোলাম রাজ্জাক কাসেমী: বিশ্বখ্যাত লেখক, গবেষক, চিন্তক ও সংগঠক আলেম আল্লামা শায়খ ড. ইউসুফ কারজাবি সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন। বিশ্বজুড়ে ইসলামি মহল ও জ্ঞানের জগতে এখনও চলছে তাকে নিয়ে বিপুল চর্চা ও আলোচনা।
তিনি বিশ্বের আলেম ও ইসলামের সেবায় নিবেদিতদের উদ্দেশে মূল্যবান কিছু ওসিয়ত করেছেন। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতি ও মুসলিম উম্মাহর ক্রান্তিকালে উপদেশগুলো খুবই দরকারি বিবেচনায় পাঠকদের জন্য তা আরবি থেকে অনুবাদ করেছেন গোলাম রাজ্জাক কাসেমী
১। আলেমদের বন্ধুত্ব হবে কেবল আল্লাহ ও তার দ্বীনের জন্য। বন্ধুত্ব হতে হবে জাতি-সম্প্রদায়, সংস্থা-সংগঠন ও ব্যক্তি প্রভাবমুক্ত। হ্যাঁ, তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক হবে। তবে তা হবে কোরআন-সুন্নাহর মানদণ্ড অনুযায়ী।
২। যাবতীয় কর্মের ভিত্তি যেন হয় কোরআন ও সুন্নাহ। সালাফ ও ইসলামের মহান পূর্বসুরিরা যেভাবে ইসলামকে বুঝেছেনÑ সেভাবেই দ্বীনের ওপর চলার চেষ্টা করুন। কালের আবর্তে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, ভ্রান্তদের অপপ্রচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যার ফলে যে সংশয় ও বেদআতের সূত্রপাত হয়েছে ইসলামকে সেসব থেকে হেফাজত করুন।
৩। জালেম ও স্বৈরাচারদের সামনে দৃপ্ত কণ্ঠে সত্য উচ্চারণ করুন। তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করুন। এ ক্ষেত্রে কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কার এবং কোনো জালেমের দাপটের ভয় করবেন না। এ কাজের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেনÑ ‘তারা আল্লাহর বাণী প্রচার করত, আর তাকে ভয় করত এবং আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকেও ভয় করত না। আর হিসাব গ্রহণকারীরূপে আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আহযাব : ৩৯)
৪। মুআজ ইবনে জাবাল ও আবু মুসা আশআরিকে (রা.) ইয়েমেনে পাঠানোর সময় রাসুল (সা.) যে ওসিয়ত করেছিলেন তা সব সময় চোখের সামনে রাখুন।
রাসুল (সা.) তাদের বলেছেন, ‘সহজ কর, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, দুঃসংবাদ দিয়ো না। আনুগত্য কর, বিরোধ করিও না।’ আলেমদের জন্য সব সময় বিশেষত এই যুগে ওই উপদেশ আরো বেশি তাৎপর্যময়। অর্থাৎ আলেমগণ সহজ ও কোমল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শক্ত ও রূঢ় আচরণ পরিহার করবেন। কারণ আল্লাহ তাআলা সব বিষয়ে কোমলতা পছন্দ করেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন ‘যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৫৯)
সহজতা বলতে শাখাগত বিষয়ে সহজ হওয়ার কথা বুঝাচ্ছি; মৌলিক বিষয়ে নয়। এই ভিত্তিতেই আমরা মানুষের সঙ্গে মিশবো। তাই এ