সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


মুসলিম ইতিহাসে যেভাবে শুরু হয়েছিলো মুদ্রার ব্যবহার!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

॥মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান॥

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুদ্রার আকার আকৃতির কোন রূপ পরিবর্তন সাধন না হলেও পরবর্তীতে এর আকার, নীতি ও বিধি বিধানের অনেক পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে।

নবী স. এর আমলে যে সব মুদ্রা প্রচলিত ছিল পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবসায়-বাণিজ্যের বিস্তার লাভের সাথে সাথে মুসলমানদের কারবার ভিন্ন রূপ হওয়া বিশেষ প্রয়োজন ছিল যা ইসলামী সম্প্রদায়ের ব্যক্তিত্বকে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি ও সম্প্রদায়ের সম্মুখে তুলে ধরবে। ইসলামী শাসনামল বা সভ্যতার যুগে মুদ্রার প্রকৃতিগত বা মৌলিক কোন পরিবর্তন হয় নি, এটি মূলত ধাতব মুদ্রাই ছিল বরং এর আকার আকৃতিগত পরিবর্তনই হয়েছে।

প্রখ্যাত মুসলিম ঐতিহাসিক বালাজুরী তার ‘ফুতুহুল বুলদান’ গ্রন্থে এ সম্পর্কে বলেন, “জাহেলিয়া আমলে মক্কাবাসীগণ রোম সম্রাট ‘হেরাকেল’ এর মুদ্রা ‘দিনার’ ব্যবহার করতেন এবং তারা পারস্য সাম্রাজ্যের ‘কায়সারের’ রৌপ্য মুদ্রা ‘দিরহাম’ ব্যবহার করতেন এবং ‘মিসকাল’ এর ভিত্তিতে তারা পরিমাণ নির্ধারণ করতেন।

এ সময় আরবগণ স্বর্ণ মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-আইন’ এবং রৌপ্য মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-ওরাক’। তার পর রোমানদের মুদ্রা ‘দিনার’ এবং পারস্যদের মুদ্রা ‘দিরহাম’ অধিক ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো, তবে কোন কোন ক্ষেত্রে ইয়ামেনের মুদ্রা ‘হুমায়রিয়া’ আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, কিন্তু খুব ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবহার হতো। এ সময় মুসলমানদের জন্য নতুন কোন বিশেষ মুদ্রার প্রচলন না করার প্রধান কারণ হতে পারে সম্ভবতঃ রসূলুল্লাহ স. এর এমন বিষয়ের প্রতি ব্যস্ততা যা এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়াজনীয় ছিল। সে সময় নবী স. এবং মুসলমানগণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে সমগ্র আরব উপদ্বীপকে একীভূত করার বিষয়ে নিমগ্ন ছিলেন।

ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর রা. নবী স. এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং মুদ্রার পরিবর্তন সাধন সম্পর্কে কোন মনোযোগ দেননি। অন্যদিকে আবু বকর রা. এর খিলাফত কাল ছিল খুবই স্বল্প সময়ের এবং মুদ্রার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিপূর্ণ ছিল যেমন ‘মুরতাদ’ বা ইসলামত্যাগীদের বিষয় ও তাদের সাথে যুদ্ধ বিগ্রহ, যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি ইত্যাদি। এ ছাড়াও নবী স. এর আরব উপদ্বীপের বাইরে ইসলামকে ছড়িয়ে দেয়ার মিশন পরিচালনা এবং সে সময়ের মহাক্ষমতাধর দু’সম্রাট (রোম সম্রাট ও পারস্য সম্রাট) এর নিকট ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়া।

উমর রা. ম