মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক: কুরআন কারীম যেমনিভাবে স্বয়ং কুরআন থেকে বুঝতে হবে, তেমনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র সুন্নাহ (হাদীস ও সীরাত) থেকেও বোঝা জরুরি। কুরআনের নির্দেশনা ও বিধিবিধান স্বয়ং কুরআন অবতীর্ণকারী তাঁকে শিখিয়েছেন [দ্র. সূরা কিয়ামাহ (৭৫) : ১৯]।
আর তিনি তাঁর শাগরিদদেরকে সবিস্তারে মৌখিকভাবে এবং আমলের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন, [দ্র. সূরা নাহল (১৬) : ৪৪]। অতএব তাদাব্বুরে কুরআন পূর্ণ ও যথার্থ হওয়ার জন্য এটা শর্ত যে, কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে হাদীস শরীফ ও পবিত্র সীরাত সামনে রাখা হবে এবং সাহাবায়ে কেরামের জীবনীর সাহায্য নেওয়া হবে।
এ নীতিটি তো সর্ববাদীসম্মত। তবে এখন আমরা শুধু ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য উল্লেখ করব। তিনি সূরা রূমের (৩০) ১৭-১৮ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় এই নীতির দিকে ইশারা করেছেন। সূরা রূমে ইরশাদ হয়েছে-
فَسُبْحٰنَ اللهِ حِیْنَ تُمْسُوْنَ وَ حِیْنَ تُصْبِحُوْنَ وَ لَهُ الْحَمْدُ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ عَشِیًّا وَّ حِیْنَ تُظْهِرُوْنَ. আল্লাহর তাসবীহতে লিপ্ত থাকো, যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা ভোরের সম্মুখীন হও। তাঁরই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এবং বিকাল বেলায় (তার তাসবীহতে লিপ্ত হও) এবং জোহরের সময়ও। -সূরা রূম (৩০) : ১৭-১৮
ইমাম আবু মানসুর মাতুরীদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন-
إنهم فهموا من هذه الآية فرضية الصلوات الخمس. ولو كانت أفهامهم مثل أفهام أهل زماننا لما فهموا منها سوى التسبيح المذكور.
অর্থাৎ উম্মতের প্রথম সারির ব্যক্তিগণ এই আয়াত থেকে প্রত্যেকদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার বিধান বুঝেছেন। যদি তাঁরা আজকালকার মানুষের মতো চিন্তা করতেন, তাহলে তাঁরা এখান থেকে শুধু তাসবীহ পাঠ করাই বুঝতেন। [বাদায়েউস সানায়ে, আল্লামা আবু বকর কাসানী (ওফাত ৫৮৭ হি.) ১/২৫৩]১
ইমাম মাতুরীদী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি একথা বলতে চাচ্ছেন যে, উম্মতের প্রধান ব্যক্তিবর্গের (সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন) ঈমানী যিন্দেগীর আলোকে কুরআন বোঝা উচিত। কেননা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা থেকে কুরআন বুঝেছেন এবং তাদের ইসলামী যিন্দেগী কুরআন কারীম ও নববী শিক্