ইসমাইল বিন আমিন ।। খৃস্টীয় ত্রয়োদশ শতক। সময়টা ছিলো চরম যুদ্ধ-বিগ্রহের । একদিকে মুসলমানদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব , ক্রুসেডারদের ধারাবাহিক আক্রমণ আর অপরদিকে তাতারদের তাণ্ডবলীলা ছেয়ে ফেলেছিলো পুরো মুসলিম দুনিয়া। এই শতকের প্রথম পাদে (১২২০-২৬ সালের মধ্যে) নাজিমুদ্দিন হাসান আল রাম্মাহ আল-আহদাব বর্তমান লেবাননের তারাবলিসে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর বাপ-দাদারা যুদ্ধবিদ্যা ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী ছিলো।সে সূত্রে তিনিও তাঁর দীর্ঘ জীবন এই পথে অতিপান করেন। তাঁর নতুন নতুন আবিষ্কারগুলো অনেক শক্তিশালী বাহিনীর ভিত নাড়িয়ে দেয় রণাঙ্গনে , কাঁপন ধরায় শত্রুমনে।
আরব এবং চিনারা আগ থেকে বারুদ সম্পর্কে জানলেও চতুর্দশ শতকের পূর্বে সেটার মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর বিষয়টি কেউই জানতো না। বোমা বানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বপ্রথম এই হাসান আল-রাম্মা'ই কলম ধরেন ।তাঁর আবিস্কৃত সমরাস্ত্রগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে বিজয় এনে দেয় মুসলমানদের জন্য।
১২৪৮ সালে সপ্তম ক্রুসেড শুরু হয় রাজা নবম লুইয়ের নেতৃত্বে। এই যুদ্ধে সর্বপ্রথম হাসানের উদ্ভাবিত কামান ব্যবহার হয়। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ঐতিহাসিক লর্ড জোইনভিলের মতে কামানের গোলাগুলোর পেছন দিকে বর্শার মতো আগুনের লেজ থাকতো। বাতাস ভেদ করে উড়ে আসতো, মাটিতে পড়ার পর আওয়াজ হতো বজ্রের মতো এবং পুরো রণাঙ্গন আলোকিত হয়ে যেতো। তিনি বলেন, " মুসলমানদের গোলা নিক্ষেপের আওয়াজ শুনলে আমাদের পুণ্যকৃৎ রাজা লুইস বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেন। দুই হাত প্রসারিত করে কেঁদে কেঁদে বলতেন, হে মহান ইশ্বর! আমার লোকদেরকে রক্ষা করুন।
এই যুদ্ধে ক্রুসেডাররা খুব বাজেভাবে পরাজিত হয়।যুদ্ধ শেষে হাসান নিজ এলাকায় ফিরে যান। গবেষণা এগিয়ে নেন সময়ের সাথেসাথে। ১২৬০ সালে মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় সুলতান কুতুজ তাঁকে ডেকে পাঠান। এতোদিনে তিনি তাঁর কামানের কার্যকারিতা আরো নিখুঁত করে তোলেন । সপ্তম ক্রুসেডে কামান ব্যবহারের কথা কিছু পশ্চিমা ঐতিহাসিক স্বীকার না করলেও আইনে জালুতের এই যুদ্ধকে সবাই সর্বপ্রথম কামান ব্যবহারের ক্ষেত্র হিসেবে মেনে নেন।যুদ্ধে কুতুজ আর বাইবার্সদের ঈমানী বল, তওয়াক্কুল আà