আল্লামা সুলতান যওক নদভী।।
আমি যখন (গত খ্রিষ্টীয় শতেকর ষাটের দশকে) বশরত নগর মাদ্রাসায় (চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম) শিক্ষকতা শুরু করি, তখন এলাকার বিভিন্ন মাহফিলে ওয়াজ করার জন্য দাওয়াত আসতে লাগল। কোরআন-হাদীসের আলোকে আমি কিছু কিছু বয়ান করতে লাগলাম।
মানুষ আগ্রহ ভরে আমার বয়ান শুনত। মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মফজাল সাহেবও (রহ.) বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমাকে সাথে নিয়ে যেতেন। কিন্তু আমি কি জানতাম যে, এর মধ্যে আমার আত্মিক ব্যাধি লুকিয়ে আছে, যার যথার্থ চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল?
একবার বোয়ালিয়া হোসাইনিয়া নতুন মাদরাসায় (আনোয়ারা, চট্টগ্রাম) জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুফতী আযীযুল হক হুজুর (রহ.) এর দাওয়াত ছিল। মাদরাসা হোসাইনিয়ার মুহতামিম ছিলেন আমার শ্বশুর মাওলানা আলী আহমদ সাহেব (রহ.)। তখন মাদরাসার বার্ষিক সভা ছিল। আমিও সেখানে উপস্থিত হই।
আমার শাদী হয়েছে তখন বেশি দিন হয়নি। মাদ্রাসার প্রতিবেশী মরহুম হাজী আজিজুর রহমানের ঘরে প্রায়ই বড় বড় আলেমদের ওয়াজ মাহফিল হতো। সেখানে হযরত মুফতি সাহেব হুজুরের বয়ানের ঘোষণা দেয়া হলো।
উল্লেখ্য, এই প্রোগ্রামটি ছিল মাদ্রাসার সভার দিন সকালে। আমার শ্বশুরালয়ের মুরুব্বিদের দাবী ছিল, মুফতি সাহেবের বয়ানের পূর্বে আমিও যেন সংক্ষিপ্ত বয়ান করি। ভয়ে তখন আমার অবস্থা তো কাহিল, মুফতি সাহেব হুজুরের সামনে আমি মুখ খুলব কিভাবে?
এদিকে জলসার সব আয়োজন সম্পন্ন। মাইক্রোফোনও প্রস্তুত। এখন যা-ই বলব, হযরতের কানে পৌছে যাবে। অবশেষে তারা তাদের অবেদনটি হুজুরের সামনে পেশ করলেন। হুজুর সম্মতি দিয়ে বললেন, ঠিক আছে।
কিন্তু এই সম্মতি খুব বেশি আগ্রহ ও সন্তুষ্টচিত্তে ছিল না। কিন্তু তারা কি আর এত কিছু খেয়াল করে? সামান্য সম্মতি পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আমাকে টেনে হেঁচড়ে স্টেজে পৌঁছিয়ে দিলো। আমার অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। ভয়ে ভয়ে কয়েকটি কথা বলে নেমে এলাম।
দুপুরে মাদ্রাসার সভায়ও তাদের পীড়াপীড়িতে কিছু বলতে হলো। সন্ধ্যার দিকে হুজুরের তাকরীর শুরু হয়। বিষয় ছিল আত্মশুদ্ধি। আলেম সমাজের আত্মশুদ্ধি প্রসঙ্গে সারগর্ভ আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে বললেন, আলেম সমাজের নিজেদের আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। নিছক বাগাড়ম্বরতা ও কথার ফুলঝুরি নয়। অন্যকে উপদেশ দেয়ার পরিবর্তে গভীর অধ্যয়নের মাধ্যমে জ্ঞানগত দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, 'ওয়াজ কে করবে? যে আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে বান্দাদের বিলিয়ে দà