মাহমুদুল হাসান নু’মান বিন আল্লামা মুফতি মাওলানা উসমান গনী বালিয়া রহ.
বাংলাদেশসহ মুসলিম জাতির যে মহাদুর্যোগ চলছে এর কারণ হলো কুরআন থেকে বিচ্যুতি ও পাশ্চাত্য মতবাদের উপর নির্ভরতা। অথচ ইসলামের ভিত্তি হলো ইনসাফ আর পাশ্চাত্য মতবাদের ভিত্তি ন্যাচারাল সিলেকশন-এর মত নিষ্ঠুর থিউরি। ডারউইনের বিবর্তনবাদের মূলকথা হলো Struggle for life and survival of the fittest অর্থাৎ জীবজগতে খাদ্য বাসস্থান ইত্যাদিতে টিকে থাকার জন্য নিরন্তর সংগ্রাম চলছে।
এই সংগ্রামে যে প্রাণী পরিবেশের সাথে নিজেকে অধিক খাপ খাওয়াতে পারে সে টিকে যায় ও প্রজনন করে, যে ব্যর্থ হয় সে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটাকেই বলে ন্যাচারাল সিলেকশন- প্রাকৃতিক নির্বাচন। হার্বার্ড স্পেন্সার ‘সোশ্যাল ডারউইনিজম’ নামে এই থিউরি সমাজবিজ্ঞানে প্রয়োগ করেন। অর্থাৎ সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা হবে, সেখানে যোগ্যরা টিকে থাকবে অযোগ্যরা ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, দুঃখ করার কিছু নেই।
এই নিষ্ঠুর থিউরির উপর পশ্চিমা মতবাদ প্রতিষ্ঠিত। যেমন পুঁজিবাদ শুধু উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট চারটি উপাদানের মধ্যে আয় বন্টনের কথা বলে। সমাজতন্ত্র শ্রমিকের উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্ব-এর ঘোষণা দিয়ে ব্যক্তি মালিকানা খতম করে রাষ্ট্রীয় মালিকানার কথা বলে। এর বাইরে উক্ত দুটি মতবাদ বৃহত্তর মানবাধিকার সম্পর্কে কিছুই বলে না। যেমন নিঃস্ব, দরিদ্র, ইয়াতিম, বিধবা, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, বিকলাঙ্গ, পতিতা, হিজড়া দুর্বল, মজলুম ইত্যাদি জনগোষ্ঠীর কি হবে- এ সম্পর্কে কিছুই বলে না।
তবে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের মূল দর্শন থেকে বেরিয়ে এসে সমাজতন্ত্রের ভয়ে পুঁজিবাদ কল্যাণ রাষ্ট্র, সমাজতন্ত্র সামাজিক নিরাপত্তা ও জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করেছে- যা খন্ডিত, অপূর্ণাঙ্গ, অসার্বজনীন।
তাছাড়া এগুলি বাস্তবায়নের জন্য কোন কর্তৃপক্ষ বা আইনি বাধ্যবাধকতা নাই। পক্ষান্তরে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ ও সার্বজনীন মানবাধিকার দিয়েছে, এগুলি ঈমান আকিদার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় বাস্তবায়ন না করলে ইহ-পরকালে শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল হক্কুলাহ অংশটা ব্যতীত কুরআন হাদিস থেকে হুকুমত ও মানবাধিকার অংশটা বাদ পড়ে গেছে।
কোন ফিরকার সিলেবাসে এসব বিষয় নাই বিধায় আমরা এগুলি জানিও না, প্রচার ও প্রতিষ্টার চেষ্টাও করি না। অথচ পশ্চিমা সেকুলার শিক্ষা ব্যবসà