মাসুম আবদুল্লাহ
ফাজেল দেওবন্দ
বলা হয়ে থাকে—দরসিভাবে যোগ্যতার ভিত দৃঢ় ও সুসংহত করার সর্বশেষ জামাত শরহেবেকায়া। এ জামাতের পর দরসিভাবে যোগ্যতা গড়ার আর সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ে মৌলিক যোগ্যতা সৃষ্টি ও যোগ্যতার ঝালাই যে-কোনো মূল্যে এ জামাতে থাকতেই করা বাঞ্ছনীয়।
অতএব—অন্য জামাতের পড়া-লেখার তুলনায় এ জামাতের পড়াশোনা হতে হবে একটু বেশি শৃঙ্খলিত ও মার্জিত। স্বপ্ন ছোঁয়া ও স্বপ্ন জয়ের তাড়নায় অধিক তাড়িত। চেষ্টা-সাধনার সীমানা পেরিয়ে পরিণতি ও পরিণাম লাভের নেশায় আচ্ছাদিত। বরং উচ্ছ¡সিত ও উদ্বেলিত। শুধু পরীক্ষায় নয় বরং জীবন সাধনায় সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হতে প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক হাড়ভাঙ্গা মেহনত ও অনুশীলন নির্ভর পড়া-লেখা। নিচে এ জামাতে ভালো ফলাফল ও সফলতা লাভের কিতাবভিক্তিক কিছু কৌশল ও করণীয় তুলে ধরা হল—
তরজমাতুল কুরআনিল কারিম
১. শব্দের তাহকিক-সহ সাবলীল অনুবাদ রপ্ত করবে। সাবলীল অনুবাদ শেখার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুবাদ সতর্কতা-সহ পড়া যেতে পারে।
২. আয়াত সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও শানে নুযুল গুছিয়ে লিখে রপ্ত করবে। এ ক্ষেত্রে উস্তাদের আলোচনা মনে রাখার চেষ্টা করবে।
৩. আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা বা আয়াত সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়েল ও হুকুম-আহকাম বুঝে শুনে পড়বে ও লিখে মনে রাখার চেষ্টা করবে।
৪. আয়াতাংশ বা আয়াতে থাকা ছোট ছোট বাক্যের মহল্লে ই’রাব ও তরকিব রপ্ত করবে।
৫. আয়াত বা সুরার ফজিলত এবং তার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা-উপদেশ সাজিয়ে-গুছিয়ে লিখবে ও রপ্ত করবে।
৬. দীর্ঘ নেসাব হলেও ভবিষ্যত জীবনের দিকে তাকিয়ে পঠিত পুরো অংশ রপ্ত করার চেষ্টা করবে। একদম অপারগ হলে—সে-সব জায়গা থেকে সাধারণত প্রশ্ন আসে কিংবা বেশি আসে—অতিরিক্ত যত্নসহ সেসব জায়গা আত্মস্থ করার প্রতি মনোযোগি হবে।
৭. বিগত বছরের প্রশ্ন সংগ্রহ করবে এবং প্রশ্নের ধরণ, প্রশ্নের ব্যপ্তি ও গভীরতা উপলব্ধি করে উত্তর লেখার অনুশীলন করবে।
মুখতাসারুল মায়ানি
১. পুরো কিতাবটি বুঝে বুঝে বার বার পড়বে। কিতাবের কঠিন জায়গাগুলো বিশেষ যত্নসহ আয়ত্ত করবে।
২. বালাগাতের বিভিন্ন পরিভাষার সংজ্ঞা, প্রকার ও তার উদাহরণ বুঝে শুনে আয়ত্ত করবে।
৩. পুরো কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা উদারণগুলোর বিশুদ্ধ হরকত, সঠিক অনুবাদ, কার উদাহরণ এবং কীভাবে—তাহকিক ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ খাতায় লিখে রপ্ত করবà§