মুফতি আল আমিন বিন সাবের আলী।।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ৪৬তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শেষ হলো আজ। এ পরীক্ষার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল পুরো একটি বছরের (২০২২-২৩ঈ./১৪৪৩-৪৪হি. শিক্ষাবর্ষের)। পরীক্ষা শেষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে সারাদেশের মাদরাসা ছাত্ররা। ছুটি কাটাতে সবাই চলে যাচ্ছে নিজ নিজ ঠিকানায়। দীর্ঘ সময় থাকবে এ ছুটি।
ইসলামে আভিধানিক অর্থে যদিও ‘ছুটি’র কোনো ধারণা নেই। যদ্দরুণ নির্ধারিত সময়ে করনীয় ফরজ ইবাদতসমূহে এক ওয়াক্তেরও ছুটি নেই। অনুরুপ সীমিত পর্যায়ের যে ছুটি, তার সময়গুলোও অনর্থক কাজ-কর্মে নষ্ট করার অনুমতি ইসলাম দেয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদরাসাগুলোর বন্ধ-‘ছুটি’র মর্ম হলো, কাজের ধরন ও নিয়ম পরিবর্তন করা।
মাদরাসা খোলা অবস্থায় নিয়মিত কাজের চাপে যে কাজগুলো করার সুযোগ হয়ে ওঠে না ছুটির মধ্যে তা যেন কিছু কিছু করা যায় এবং ছুটির পর যেন নতুন উদ্যমে নির্ধারিত কাজে মনোনিবেশ করা যায়।
এজন্য আমাদের বড়দের অভ্যাস ছিল, তারা ছুটির দিনগুলোর জন্য আলাদা নিজামুল আওকাত রাখতেন এবং তাদের বিশেষ ছাত্রদেরকেও এ নির্দেশনা দিতেন যে, নিজ নিজ তালীমী মুরব্বীর পরামর্শক্রমে ছুটির দিনগুলোর একটি নেজাম সামনে রেখে চল, যাতে ছুটির উদ্দেশ্য হাসিল হয়।
একজন শিক্ষাগুরু তার শিষ্যকে নিজ সন্তানের মতো করে দেখেন বা লালন করতে চান। রাসুলে কারীম সা.-এর বাণী ‘আনা লাকুম মিছলুল ওয়ালিদি লিওয়ালাদিহি’ -আমি তোমাদের সামনে সন্তানের সামনে একজন পিতার মতো - যার অনন্য দৃষ্টান্ত। নিজ ছাত্ররা কিভাবে কাটাবে সামনের দিনগুলো-এ চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠে একজন দায়িত্ব সচেতন ও অভিভাবকমনা শিক্ষকের তনুমন।
সে তাকিদ থেকেই সামনের কথাগুলো তুলে ধরা কোমলমতি প্রিয় শিক্ষার্থীদের সামনে। তাদের কোনো একজনও যদি পেয়ে যায় সঠিক পথের দিশা, সিরাতে মুস্তাকীমের রাহনুমায়ী.. তাহলেই সফল ধরে নিব প্রতিটা শিক্ষাগুরু ব্যাকুল হৃদয়ের আকুলতার। যেমনিভাবে রাসুল সা. তার প্রিয় সাহাবী হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রা. কে ইয়ামানে পাঠানোর সময়ও তার আমল-আখলাকের ব্যাপারে চিন্তান্বিত হতে ভুলেননি।
তাকে নসিহত করে বলেছিলেন, ১. ‘ইত্তাকিল্লাহ’-আল্লাহকে ভয় করে চলবে। ২. ‘ওয়া আতবিয়িস সায়্যিআতল হাসানাহ তামহুহ’- কোনো গোনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নেক কাজ করে নিবে, তা সেটà¦