মুহিব্বুর রহমান উসামা।।
আজ দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল বরাত। শবে বরাত নিয়ে আমাদের সমাজ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িতে লিপ্ত। সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ পূণ্যময় রজনীকে এমনভাবে উদযাপন করে, যা সম্পূর্ণ ইসলাম বহির্ভূত। তারা এই পবিত্র রাতে এমনসব কাজ-কর্ম করে যা সুস্পষ্ট বিদআত ও নাজায়েজ। অপর একটি শ্রেণীর মানুষ এ রাতের ফজিলতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচার করে নিজেরা যেমন নফল ইবাদত থেকে দুরে থাকে, অপরকেও ইবাদত থেকে দুরে রাখার চেষ্ঠা করে। এই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি ইসলাম সমর্থন করে না।
শবে বরাতের ফজিলতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলা ঠিক নয়। কারণ ১০ জন সাহাবি থেকে শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং শবে বরাতের ফজিলত ও রাতের ইবাদতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলা কোনোক্রমেই সংগত নয়। বরং বাস্ততার আলোকে স্বীকার করতেই হবে, এ রাত পূণ্যময় মুক্তির রাত। এ রাতে জেগে থেকে নফল ইবাদত-বন্দেগি করা পুণ্যময় কাজ। তবে ইসলামে এ রাতের ইবাদতের জন্য বিশেষ কোনো নিয়মনীতি নেই।
শবে বরাত কী?
রাসুলের সা. ভাষায় ‘লাইলাতুন নিসফী মিন শাবান’। অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫তম রজনী। হজরত মুআজ ইবনে জাবাল রা. সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হদিস নং. ৬৬২৮)
হযরত আসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর তাঁর পিতার সনদে দাদা হযরত আবু বকর রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সা. ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা শাবানের ১৫তম রাত্রে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং সকল পাপীকে (যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে) ক্ষমা করে দেন। তবে’ মুশরিক’ (আল্লাহর সাথে সমকক্ষ সাব্যস্তকারী) ও ‘মুশহিন’ (হিংসুক) ব্যতীত। (-বায়হাকি ফি শুয়াবিল ঈমান হা. ৩৮৩৫)
হযরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা., আবু সালাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. আবু মুসা আশআরী রা. আবু হুরায়রা রা., আবুবকর রা.,আউফ ইবনে মালিক রা. ও হজরত আয়েশা রা. সকলেই এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসবিশারদগণ উক্ত হাদিসের রাবীদেরকে ছেক্বাহ তথা বিশ্বস্ত বলেছেন। মূল কথা হাদিসটি ‘সহীহ’। (-সহী ইবনে হিব্বান, আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২ খন্ড:পৃঃ ১১৮, মাজমাউল ফাওয়ায়ীদ খন্ড ৮,পৃ. ৬৫, মুসনাদে বাযযার,খন্ড ৮.পৃ. ৬৭)
শবে বরাত তথা শাবানের ১৫ তারিখের রোজা বিষয়ে সমৃদ্ধ হাদীস সম্ভারে শুধু একটি হাদীসই রয়েছে। হাদিসà