|| মুফতী মনসূরুল হক ||
সমগ্র বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ পালন করা শরীয়তের দলীল-প্রমাণ, ভৌগোলিক ও জ্যোতির্শাস্ত্রীয় বাস্তবতা কোন দিক থেকেই সম্ভবই নয়। কার্যত যা সম্ভব নয়, শরীয়ত নাযিলের সময় সে বিষয়ের ধারণা থাকলেও, শরীয়ত এর হুকুম দেয় না। আর একে তো অসম্ভব, আবার সে সময় এর ধারণাও ছিল না, এমন বিষয়ের হুকুম শরীয়ত কীভাবে দেবে?
রোযা ও ঈদের ঐক্যের ডাক বেশি আগের নয়, আবার বেশি নতুনও নয়, ষাট/সত্তরের বছরের কিছু বেশি এর বয়স। প্রথমে যারা এই আওয়াজ তুলেছেন তারা শুধু মুসলিম বিশ্বব্যাপী ঐক্যের প্রস্তাব পেশ করেছেন। পরবর্তীরা বিশ্বব্যাপী এক করার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন এবং এখনও করে চলেছেন।
আমরা নিম্নে বিষয়টি দালীলিক বিশ্লেষণ পেশ করছি-
স্ব স্ব এলাকায় চাঁদ দেখে রোযা ও ঈদ পালন করার দলীল:
এক নং দলীল : নববী যুগের আমল
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদ দেখার জন্য অথবা চাঁদের সংবাদ বা সাক্ষ্য সংগ্রহ করার জন্য এক/দুই দিন দূরত্ব নয়; পাঁচ-দশ মাইল দূরত্বের কোনো এলাকায়ও কোনো লোক পাঠিয়েছেন? হাদীস, সীরাত ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলীতে এর একটিও কি দৃষ্টান্তও কেউ দেখাতে পারবে না।
এখানে একটি বিষয় বুঝতে হবে যে, এক হল সাক্ষ্য এসে গেলে সাক্ষ্য কবুল করা, আরেক হল সাক্ষ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা, দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। একই হিলাল এবং প্রথম হিলালের ভিত্তিতে রোযা ও ঈদ করা যদি কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ হয়ে থাকে তাহলে অন্যান্য অঞ্চল থেকে নতুন চাঁদের সংবাদ এবং সাক্ষ্য সংগ্রহ করাও তো ফরয হবে। কিন্তু নবী-যুগে এর উপর আমল হল না কেন? এসে যাওয়া সাক্ষ্য গ্রহণেই কেন ক্ষ্যান্ত থাকা হল?
দুই নং দলীল : সাহাবায়ে কেরামের আমল
হাদীসের বিখ্যাত কিতাব তিরমিযী শরীফে ইমাম তিরমিযী রাহ. স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় এনেছেন, যার শিরোনাম দিয়েছেন- باب ما جاء لكل أهل بلد رؤيتهم
অর্থাৎ প্রত্যেক অঞ্চলের লোকেরা তাদের চাঁদ দেখা অনুযায়ী রোযা-ঈদ পালন করবে। এই অধ্যায়ে তিনি সহীহ সনদে একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি এই-
عن كريب أن أم الفضل بنت الحارث، بعثته إلى معاوية بالشام قال: فقدمت الشام، فقضيت حاجتها، واستهل علي هلال رمضان وأنا بالشام، فرأينا الهلال ليلة الجمعة، ثم قدمت المدينة في آخر الشهر، فسألني ابن عباس، ثم ذكر الهلال، فقال: متى رأيتم الهلال، فقلت رأيناه ليلة الجمعة، فقال: أأنت رأيته ليلة الجمعة؟ فقلت: رآه الناس، وصاموا، وصام معاوية، قال: فقلت: ألا تكتفي برؤية معاوية وصيامه، قال: لا، هكذا أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
অর্থাৎ বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত কুরাইব রাহ. কে উম্মুল ফযল বিনতুল হারিছ