রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১০ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

ময়মনসিংহ মেডিকেলে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

হাম সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ১২ দিনে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ও রাতে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত শিশু বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে ৬৬ জন হাম আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চলতি মাসে মোট ১০৬ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে। একই সঙ্গে শিশু ওয়ার্ডের তিনটি কক্ষকে ‘হাম কর্নার’ হিসেবে নির্ধারণ করে সেখানে ১০ শয্যার আলাদা ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা নেত্রকোনার কলমাকান্দার কামরুল ইসলাম জানান, প্রথমে তার সন্তানের ঠান্ডা, সর্দি ও জ্বর ছিল। পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার সন্তানের চিকিৎসা চলছে।

একইভাবে গৌরীপুরের কলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ বেগম তার সাড়ে আট মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি জানান, শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হলেও কীভাবে হাম হলো, তা বুঝতে পারছেন না।

শিশু বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. বিজন কুমার বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—উভয় ধরনের শিশুই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় পৃথক কর্নার চালু করা হয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মার্চ থেকে পৃথকভাবে হামের রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৮ মার্চ চার মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ২৬ মার্চ আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ শনিবার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, সাধারণ রোগীদের থেকে হাম আক্রান্তদের আলাদা রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছে। হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ স্পষ্ট না হলেও টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়েছে। সাধারণ রোগীদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইসোলেশন সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।’

এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ