নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুরের দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উদ্যোগে সিরাত পাঠ, হামদ-নাত ও কেরাত প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে মোট ২১০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।
দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আকরামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ড. এ কে আবদুস সালাম।
প্রতিযোগিতায় কেরাত বিভাগে ৯৩ জন, হামদ-নাত বিভাগে ৩৭ জন এবং সিরাত পাঠ বিভাগে বালিকা শাখায় ৫০ জন ও বালক শাখায় ৪০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, কোরআন তিলাওয়াত এবং ইসলামী সংস্কৃতিচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিচারকমণ্ডলী দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুমের মুফতি ও মুহাদ্দিস মুফতি নাঈমুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের শিক্ষাসচিব মুফতি মুহিউদ্দীন মাসুম, বিআরটিসি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সাখাওয়াত রাহাত, জামিয়া মাদানিয়া রওজাতুল উলুম আলেখারচরের সিনিয়র শিক্ষক মুফতি আখতার হোসাইন ফয়েজীসহ দুর্গাপুর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের খতিব, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে নবীপ্রেম, কোরআন তিলাওয়াতের আগ্রহ ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, আদর্শ ও মানবিক গুণাবলিতে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, শিশু-কিশোরদের দ্বীনি শিক্ষা, প্রতিভা বিকাশ এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
আইও/