শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ।। ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৬ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
কোনো শ্রেণি বা পেশা এবার বাজেটের বাইরে নেই: অর্থমন্ত্রী বিশ্বকাপ ফুটবল: বিজাতীয় সংস্কৃতি চর্চায় ভয়ংকর উন্মাদ তরুণ প্রজন্ম!  সীমান্তে বিজিবির দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা পীরের সাহেব চরমোনাইয়ের দীনি লেবাস ও নৈতিকতার বিতর্ক: বাস্তবতা বনাম ন্যারেটিভ হিজরি সন: মুসলিম জাতিসত্তার গৌরবময় পরিচয় প্রস্তাবিত বাজেট দেশকে ঋণের দাসত্বে বাঁধার পাঁয়তারা: আমিরে মজলিস ‘প্রাথমিকে ইসলামবিরোধী অপসংস্কৃতি চাপানোর চক্রান্ত রুখে দেওয়া হবে’ পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের সময় জানালো সৌদি কর্তৃপক্ষ আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান বিকেএমের প্রাথমিকে চারুকলা নয়, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি শিক্ষক ফোরামের

মহারাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম নারী অফিসার আদিবা আনাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন আদিবা আনাম। তিনি মহারাষ্ট্রের যবতমালের এক রিকশাচালকের মেয়ে। তিনি UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ২০২৪ সালে অল ইন্ডিয়া র‌্যাঙ্ক ১৪২ অর্জন করেছেন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে আদিবা হন তাঁর রাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী, যিনি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় (IAS) যোগ দিতে চলেছেন— জানিয়েছে ক্ল্যারিয়ন ইন্ডিয়া।

একটি সাধারণ ঘরে বড় হওয়া আদিবার জীবনের গল্প সংগ্রাম, অধ্যবসায় আর স্বপ্ন পূরণের। তিনি পড়াশোনা শুরু করেন যবতমালের একটি জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে, যেখানে তিনি মাধ্যমিকে ৯৪% এবং উচ্চমাধ্যমিকে (বিজ্ঞান বিভাগে) ৯২.৪৬% নম্বর পান।

প্রথমে তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু তার মামা, জন নিজামুদ্দিন, তাকে সিভিল সার্ভিসের পথে আসতে উৎসাহিত করেন। তিনি ছিলেন আদিবার অনুপ্রেরণা ও আর্থিক সহায়ক – পুরো যাত্রাপথে একজন অভিভাবকের মতো পাশে থেকেছেন।

পুনের আবেদা ইনামদার কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক শেষ করেন আদিবা, পান ৮৫.২০% নম্বর। পরে যদিও NET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তবুও অধ্যাপনার জীবন বেছে না নিয়ে UPSC প্রস্তুতিতে মন দেন। প্রথম কয়েকটি প্রচেষ্টায় চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক— বিশেষ করে কোভিড মহামারির সময়। তৃতীয় প্রচেষ্টা ছিল মুম্বাইয়ের হাজ হাউসে, মাকসুদ খানের তত্ত্বাবধানে, যেখানে তিনি আরও একধাপ এগিয়েছিলেন, তবে তালিকায় নাম ওঠেনি। পিছু হঠেননি। পরবর্তী সময়ে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার রেসিডেনশিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে চতুর্থ প্রচেষ্টায় সফলতা পান।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেও ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে উর্দু সাহিত্য বেছে নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন তিনি – যা তার সাংস্কৃতিক শিকড় ও প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে। তার বাবা-মা ছিলেন নিঃশব্দ শক্তি। আদিবার ভাষায়, ‘আমার বাবা কখনো থামতে বলেননি। শুধু বলতেন, ‘আল্লাহ তোমায় সফল করুক।’

আজ আদিবার সাফল্য এক অনুপ্রেরণা – বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া সমাজের জন্য। তার নিজের ভাষায়, ‘এই জয় সেই মেয়েদের জন্য, যাদের বলা হয়েছে ‘তোমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা তো শুধু শুরু।’

সূত্র: মুসলিম মিরর

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ