মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সৌদি যুবরাজ


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স  মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। উদ্ভূত নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় তার নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে এবং তাকে এক প্রাসাদ থেকে অন্য সুরক্ষিত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

যুবরাজের চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কাতার ও অঞ্চলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৪১ বছর বয়সি মোহাম্মদ বিন সালমানকে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন একাধিক প্রাসাদে রাখা হচ্ছে। তার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষভাবে বাছাই করা একটি বিশেষ নিরাপত্তাদল। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় এই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার সৌদি আরব গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ে। রাজধানী রিয়াদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের ছোড়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই প্রাণঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা।

এই হামলার পর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটি চার দফায় হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট সরাসরি অংশ নেবে কি না, সে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। পাশাপাশি মক্কা চুক্তিভুক্ত মিত্র দেশগুলোও রিয়াদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে ২০১৫ সাল থেকে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করেছিল সৌদি আরব, যার ফলে হুথিদের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়। যদিও ২০২২ সালে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাতের জেরে সেই সমঝোতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

টিএইচএ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ