ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের জেরে সৃষ্ট সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারির আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন ল্যেকরনু। তার অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে চুরি, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ল্যেকরনু। তিনি বলেন, জনজীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে ও সীমিত পরিসরে কারফিউ জারি করা যেতে পারে। তবে প্যারিসের মতো পুরো শহরে কারফিউ দেওয়ার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজন হলে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় আংশিক কারফিউ কার্যকর করাই বেশি উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে শনিবারের বিক্ষোভে কয়েকটি শহরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি বলে স্বীকার করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ। সহিংসতা মোকাবিলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করে নতুন কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
সোমবার নুনেজ বলেন, বিক্ষোভের ব্যাপকতা সম্পর্কে আগাম ধারণায় ঘাটতি ছিল। আন্দোলনকারীদের ভিড়ে সুযোগ নেওয়া দুষ্কৃতকারী ও লুটেরাদের মোকাবিলায় অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যও ছিলেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশজুড়ে প্রায় দুই লাখ বিক্ষোভকারীর উপস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে রাজপথে নামেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। একপর্যায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সের অন্যতম বড় বিশৃঙ্খলার ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে নুনেজ প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে মাখোঁ তা গ্রহণ করেননি। বরং পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষ এবং হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সপ্তাহব্যাপী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে সেই বিক্ষোভ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার সময় সিটি হলসহ বেশ কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া প্রায় দুই হাজার দোকানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় দুই হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের ৭০ শতাংশই প্রাপ্তবয়স্ক। সহিংসতায় প্রায় এক হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন।
নুনেজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ৬০ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। তারপরও প্যারিস, মার্সেই ও লিয়নের মতো বড় শহরগুলোতে সংঘবদ্ধ দাঙ্গাকারীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
এসএইচ/