শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

ঈমানের মাধুর্যেই মেলে অন্তরের প্রশান্তি: শাইখ সালেহ বিন হুমাইদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মানুষের অন্তরের প্রকৃত প্রশান্তি ও স্থায়ী সুখের উৎস বস্তুগত প্রাচুর্য নয়; বরং ঈমানের মাধুর্য, আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা। জীবনে একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েও কেউ ধৈর্য ও প্রশান্তি ধরে রাখতে পারেন, আবার কেউ অস্থিরতা, হতাশা ও অভিযোগে ভেঙে পড়েন। এর অন্যতম কারণ মানুষের অন্তরে ঈমানের অবস্থান ও আল্লাহর ওপর ভরসা—জুমার খুতবায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শাইখ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন।

খুতবায় শাইখ সালেহ বিন হুমাইদ মানুষের জীবনযাপন ও মানসিক অবস্থার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, কেউ প্রশস্ত হৃদয়, শান্ত মন ও সন্তুষ্টি নিয়ে জীবন কাটান। অন্যদিকে কারও পর্যাপ্ত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি একঘেয়েমি, অভিযোগ, হিংসা ও স্বার্থপরতায় নিমজ্জিত থাকেন।

তিনি বলেন, এ পার্থক্যের অন্যতম মূল কারণ হলো ‘ঈমানের মাধুর্য’। মানুষ যখন আল্লাহকে নিজের স্রষ্টা ও রিজিকদাতা হিসেবে বিশ্বাস করে, বিপদ-আপদে তাঁর ওপর ভরসা রাখে এবং তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে, তখন তার অন্তরে প্রশান্তি তৈরি হয়। আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাকে ভয়, হতাশা ও অস্থিরতা মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।

খতিব বলেন, মুমিনের জীবন পরিচালিত হওয়া উচিত শোকর ও সবরের মাধ্যমে। জীবনে কোনো নেয়ামত এলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। আর অভাব, বঞ্চনা কিংবা বিপদ-পরীক্ষা এলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সৎকাজের নির্দেশ পেলে তা পালনে এগিয়ে আসতে হবে, অন্যায় থেকে নিষেধ করা হলে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর কোনো গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তওবা ও ইস্তিগফার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈমান মানুষের চিন্তা, আচরণ ও নৈতিকতাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। ঈমানের দুর্বলতা মানুষকে ভয়, স্বার্থপরতা ও অসন্তুষ্টির দিকে ঠেলে দিতে পারে। অন্যদিকে অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তা থাকলে মানুষ সুখের সময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং দুঃখ-কষ্টের সময়ে ধৈর্য ধারণ করে।

খুতবে এ প্রসঙ্গে হজরত উমর (রা.)-এর সময়কার আতিকা নামের এক সাহসী মুসলিম নারীর কথাও তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্যের মর্ম ছিল, আল্লাহর প্রতি তাঁর ঈমান অটুট থাকলে দুনিয়ার কোনো বিপদই তাঁর প্রকৃত ক্ষতি করতে পারবে না।

খতিবের আলোচনায় উঠে আসে, প্রকৃত সুখ কেবল সম্পদ, আরাম-আয়েশ কিংবা বাহ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর ওপর ভরসা, ইসলামের প্রতি অনুরাগ এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণ মানুষের জীবনে গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।

খুতবে মুমিনদের জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখা, তাঁর নেয়ামতের শোকর আদায় করা, বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। সূত্র: দ্য গেট টু হারামাইন

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ