সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

গর্ভবতী স্ত্রী রেখে জানাযায় শরীক হলে কি সন্তানের ক্ষতি হয়?


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

 

বর্তমান সমাজে কিছু কুসংস্কার প্রবেশ করেছে, যেগুলো মানুষকে ধীরে ধীরে শিরক এবং কুফুরির দিকে নিয়ে যায়। মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্টকারী কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। প্রচলিত এসব কুসংস্কারের কারণে আল্লাহর ওপর আস্থা ও তার রহমতের প্রতি নির্ভরতা কমে যায়; চিরাচরিত ধর্মবিশ্বাসে চিড় ধরে।

কুসংস্কার হলো ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরের প্রচলিত নিয়মবিধি- যার প্রতি মানুষ অন্ধবিশ্বাস স্থাপন করে সেই বিশ্বাসকে ভিত্তি করে জীবনে চলার চেষ্টা করে। কুসংস্কারজনিত অন্ধবিশ্বাসে পড়ে মানুষ নিজেদের ঈমানকে দুর্বল করে তুলছে। বস্তুত মুসলমানের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসাই যথেষ্ট। ইসলামী শরিয়ত পরিপন্থী প্রচলিত এসব বর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্যকর্তব্য। এছাড়া কুসংস্কার বন্ধের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানো সবার ঈমানি দায়িত্ব। কুসংস্কার প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রোগের মধ্যে সংক্রমণ নেই; শুভ–অশুভ লক্ষণ বলে কিছু নেই। পেঁচায় কুলক্ষণ নেই এবং সফর মাসে অকল্যাণ নেই। বোখারী শরীফ- ৫৩৪৬।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, শুভ–অশুভে বিশ্বাস হল শিরকের অন্তর্গত আমাদের এমন কেউ নেই যার এই ওয়াসওয়াসা আসে না। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তা বিদুরিত করে দেন।- ইবনে মাজাহ ৩৫৩৮

প্রচলিত একটি কুসংস্কার  পাঠকের সামনে তুলা ধরা হল-

এক ব্যক্তির বাবার জানাযা অনুষ্ঠিত হল। কিন্তু দেখা গেল, জানাযার নামাযের সময় সে শরীক না হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, তার স্ত্রী গর্ভবতী, তাই সে জানাযায় শরীক হতে পারবে না। এতে নাকি গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হবে! সে এটাও জানালো যে, বাড়ির মহিলারা তাকে এটি বলেছে এবং জানাযায় শরীক হতে নিষেধ করেছে। তেমনি সে এলাকায় প্রচলিত আছে, গর্ভবতী নারীর স্বামী হাঁস-মুরগি জবাই করতে পারবে না; এতে সন্তান ঠোঁটকাটা বা নাককাটা হবে। এগুলো সবই অমূলক ধারণা, সামাজিক কুসংস্কার। এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।

এছাড়া এলাকাভেদে আরও অনেক কুসংস্কারের প্রচলন রয়েছে। আমাদের উচিত এসব কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রচলিত এ সব কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন। 

এমআই/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ