সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

চতুর্থ তারাবি, মুনাফিকদের প্রসঙ্গ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| ইমরান ওবাইদ ||

আজ ৪ঠা রমজান, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। গতকাল ৩য় রমজান দিবাগত রাতে পড়া হয়েছে চতুর্থ তারাবি। তেলাওয়াত করা হয়েছে পঞ্চম পারার শেষ অর্ধেক এবং ষষ্ঠ পারা—সুরা নিসার ৮৮ নম্বর আয়াত থেকে সুরা মায়েদার ৮২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। এতে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তেলাওয়াতের শুরুতেই সুরা নিসার ৮৮ থেকে ৯১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত চার প্রকার মুনাফিকদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:

১. প্রথম প্রকার:

মক্কার এমন কিছু লোক, যারা মদিনায় এসে বাহ্যিকভাবে মুসলমান হয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাহাবায়ে কেরামের সহানুভূতি লাভ করা। কিছুদিন পর তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ব্যবসার অজুহাতে মক্কায় যাওয়ার অনুমতি চায় এবং চলে যায়। তাদের সম্পর্কে কিছু সাহাবির রায় ছিল যে তারা খাঁটি মুসলমান, কিন্তু বাকিরা তাদের মুনাফিক মনে করতেন। 

তবে মক্কায় যাওয়ার পর যখন তারা আর ফিরে এলো না, তখন তাদের নেফাকি প্রকাশ পেয়ে গেল। কারণ, সেই সময়ে মক্কা থেকে হিজরত করা ঈমানের অপরিহার্য শর্ত ছিল। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হিজরত না করলে মুসলিম গণ্য করা হতো না।

২. দ্বিতীয় প্রকার:

দ্বিতীয় আয়াতে এমন মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা মনে-প্রাণে কামনা করত যে খাঁটি মুমিন-মুসলিম, অর্থাৎ: সাহাবায়ে কেরামগণ যেন তাদের মতোই কাফের হয়ে যায়। তাদের চিন্তাভাবনা ছিল অত্যন্ত নিকৃষ্ট। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের পথভ্রষ্ট করেছেন এবং মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা হয়।

৩. তৃতীয় প্রকার:

তৃতীয় আয়াতে দুই ধরনের মুনাফিকদের কথা উল্লেখ রয়েছে:
 * যারা কোনো সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল, যার ফলে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা তখন সম্ভব ছিল না।
 * যারা যুদ্ধ করতে অনিচ্ছুক ছিল। তারা কেবল নিজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও নানা চাপ থেকে বাঁচতে মুমিনদের বিপক্ষে অংশ নিত।

৪. চতুর্থ প্রকার:

চতুর্থ আয়াতে এমন মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে যারা মুখে প্রকাশ করত যে, তারা কোনোভাবেই মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা মূলত এই অভিনয় করত যাতে সাহাবায়ে কেরাম তাদের হত্যা না করেন।

বিধান: উল্লেখিত মুনাফিকদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং চতুর্থ প্রকারের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ ছিল। কেবল তৃতীয় প্রকারের মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করার বিধান দেওয়া হয়েছিল।

 

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ