সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ ।। ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘ছাত্র-জনতার রক্ত নিয়ে তামাশা করতে কাউকে সংসদে পাঠানো হয়নি’ হারাম দৃষ্টি কেড়ে নেয় হালাল সৌন্দর্য মাদরাসাবিরোধী একপাক্ষিক প্রচারণা বন্ধে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদের  সব আলিয়া মাদরাসায় প্রতিদিন পিটি ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক নওমুসলিমদের পুনর্বাসনে খাইরুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের অনন্য উদ্যোগ প্রতিবাদের ভাষায় অশ্লীলতা: সামাজিক অবক্ষয়ের এক নতুন সংকট মাদরাসা শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর আওয়াবিন নামাজের ফজিলত ও নিয়ম গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের

আওয়াবিন নামাজের ফজিলত ও নিয়ম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| শরিফ হাসানাত || 

মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ ইবাদত নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও রয়েছে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ নামাজ । ফরজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা দায়িত্ব পালন করলেও নফল ইবাদত তাকে মহান রবের বিশেষ ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির পথে এগিয়ে দেয়। এমনই একটি মর্যাদাপূর্ণ নফল ইবাদত হলো আওয়াবিন নামাজ। যুগে যুগে আল্লাহভীরু মুসলমানরা মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী এই সময়কে ইবাদত, জিকির ও নফল নামাজে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। অনেক হাদিসে এ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত রয়েছে।

আওয়াবিনের ওয়াক্ত ও রাকাত : আওয়াবিন নামাজের সময় শুরু হয় মাগরিবের পর থেকে এশার আগ পর্যন্ত তার সময় বাকি থাকে। এই নামাজ ৬ রাকাত থেকে ২০ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়। কোনো কোনো আলেম ছয় রাকাত আওয়াবিন পড়ার ক্ষেত্রে এভাবে মতামত দিয়েছেন যে, মাগরিবের পর দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ব্যতীত চার রাকাত নফল নামাজ অতিরিক্ত পড়লে আওয়াবিনের ছয় রাকাত আদায় হয়ে যাবে এবং হাদিসে বর্ণিত আওয়াবিনের সওয়াবও লাভ করবে। তবে কিছু কিছু আলেমের মতানুসারে আওয়াবিনের ছয় রাকাতকে মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকে অতিরিক্ত বলা হয়েছে (তিরমিজি : ৪৩৭; ইলমুল ফিকহ : ২/৪৮)। তবে ছয় রাকাতই অধিকাংশ সময় পড়তেন।

সাহাবিদের আমলেও ছিল গুরুত্ব : মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়কে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত মূল্যবান মনে করতেন। আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, সাহাবিদের একটি বড় দল নিয়মিত এই সময় নফল নামাজে ব্যস্ত থাকতেন। পরবর্তী যুগের তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িরাও এ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

অল্প আমলে দীর্ঘ ইবাদতের সওয়াব : আওয়াবিন নামাজ সংখ্যায় কম হলেও বিপুল সওয়াব অর্জনের রয়েছে সুযোগ। যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর ছয় রাকাত আওয়াবিনের নামাজ আদায় করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে বারো বছর ইবাদত করার সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। এটি হলো অতি অল্প সময়ে দীর্ঘকালের সওয়াব অর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ উপায়। তাই দৈনিক মাগরিবের নামাজের পর কিছু সময় আওয়াবিনের জন্য ব্যয় করা উচিত। এ প্রসঙ্গে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ পড়ে, যার মধ্যে কোনো মন্দ কথাবার্তা বলেনি, তা হলে তার জন্য এই ছয় রাকাত বারো বছর ইবাদতের বরাবর করা হবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১২২২)

জান্নাতে ঘর নির্মাণের সুসংবাদ : আওয়াবিন একটি ফজিলত ও মর্যাদাপূর্ণ নামাজ। এ নামাজ সলফে সালেহিনরা গুরুত্বসহকারে আদায় করতেন। এ নামাজের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। দুনিয়ার জীবনে এই সামান্য আমল করতে পারলে বান্দা বেহেশতের শোভনীয় ঘরের অধিকারী হবে। এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করেন। (তিরমিজি : ৪৩৭; ইবনে মাজাহ : ১৪৩৫)

গুনাহ মাফের আশাব্যঞ্জক বার্তা : মহান আল্লাহ তা’আলা তার বান্দার গুনাহ বিভিন্ন উপায়ে ক্ষমা করে থাকেন। সেসব উপায়ের মধ্যে আওয়াবিন নামাজ অন্যতম। এ ছাড়া মাগফিরাতের দরজা বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে সবসময় উন্মুক্ত। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন আওয়াবিন নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে মাগফিরাত কামনা করা। হাদিসে এসেছে, হজরত আম্মার বিন ইয়াছির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দেখেছি তিনি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়। (তাবারানি : ৩/৩২৬)।

আমাদের করণীয় : মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়টিকে শুধু গল্প-আড্ডা বা মোবাইল ব্যবহারে নষ্ট না করে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দু’আ এবং নফল নামাজে অতিবাহিত করা যেতে পারে। অল্প কয়েক মিনিটের এই ইবাদত একজন মানুষের আখিরাতের পাথেয়কে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ সুগম করতে পারে।

প্রতিদিন হয়তো অনেক আমল করা সম্ভব হয় না; কিন্তু নিয়মিত কিছু নফল ইবাদত মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারে। তাই সুযোগ থাকলে মাগরিবের পর কিছু সময় আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে তাঁর রহমত, মাগফিরাত ও জান্নাত কামনা করাই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম বিনিয়োগ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল আমলের প্রতিও যত্নবান হওয়ার এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাঁর ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমীন। 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ