ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত উম্মুল কুরা মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের একটি অংশ এবং আলেম-উলামার অনেকেই দাবি করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং মাওলানা সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে একদল যুবক আকস্মিকভাবে মাদরাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং মুহতামিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
তাদের দাবি, পুলিশ তাকে প্রায় একদিন থানায় রাখার পর একটি মামলায় আদালতে পাঠায়। তারা আরও অভিযোগ করেন, যে ছাত্রীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ওঠে, তিনি মামলার বাদী নন; এমনকি তার নিকটাত্মীয়রাও বাদী নন। বরং দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় নিজেকে ছাত্রীর চাচা পরিচয় দিয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে কোনো চারিত্রিক অভিযোগ ওঠেনি। তাদের প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কেন মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হলো এবং কেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দোষী হিসেবে প্রচার করা হলো।
এ ঘটনায় স্থানীয় আলেম ও সাধারণ বাসিন্দারা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে যারা মিথ্যা অভিযোগ, উসকানি কিংবা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে আলেম, সাংবাদিক মাহফুজ হোসাইনী তাঁর এক মন্তব্যে দাবি করেন, অতীতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আলেমদের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ তদন্তে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। তাই বর্তমান ঘটনাটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ময়মনসিংহের ইত্তেফাকুল উলামাসহ সংশ্লিষ্ট আলেম সমাজকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ এবং এলাকার মাদরাসাগুলোর নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসএইচ