আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিদেশি হজযাত্রীদের জন্য সমন্বিত ও ইলেকট্রনিক প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয়। নতুন এ ব্যবস্থায় সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত হজযাত্রার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা একটি চুক্তির আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত এ প্যাকেজে হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, খাবার এবং পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু সুবিধা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিভিন্ন দেশের হজবিষয়ক দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী হজ কর্মসূচি সাজাতে পারবে। এতে আগে যেভাবে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদাভাবে চুক্তি করতে হতো, সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হবে। একটি সমন্বিত চুক্তির মাধ্যমেই হজযাত্রীর পুরো সফরের প্রয়োজনীয় সেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
সৌদি মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং হজযাত্রীদের সেবার মান ও অভিজ্ঞতা উন্নত করার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৪৪৮ হিজরি সালের হজ মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ৭৫টির বেশি দেশের হজবিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে মন্ত্রণালয়। এসব বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা, বিধিবিধান ও বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজ ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল অবকাঠামো জোরদার করছে সৌদি আরব। ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন চুক্তি ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও হজবিষয়ক দপ্তরগুলোর কাজ আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।
কর্তৃপক্ষের মতে, একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক চুক্তির পরিবর্তে সমন্বিত চুক্তির মাধ্যমে সেবা দেওয়ার ফলে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং হজযাত্রীদের জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হবে।
সর্বশেষ হজ মৌসুমে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জন। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।
অর্থাৎ হজ পালনকারীদের বড় অংশই বিদেশ থেকে সৌদি আরবে যান। ফলে বিদেশি হজ দপ্তর ও এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে আবাসন, পরিবহন, খাবার এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবা সমন্বয়ের নতুন এ ব্যবস্থা বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩ কোটি উমরাযাত্রীকে স্বাগত জানানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে হজ ও উমরাযাত্রীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে দেশটি।
আইও/