আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
পবিত্র মসজিদুল হারামে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার খুতবায় মুসলমানদের নিজেদের আমল পর্যালোচনা এবং কেয়ামতের হিসাবের আগে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাজাভি। তিনি মুসলমানদের তাকওয়া অবলম্বন, নিজেদের কাজের হিসাব নেওয়া এবং ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে তওবার মাধ্যমে সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খুতবায় শায়খ গাজাভি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা কি অন্যদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিই, নাকি নিজেরাই অন্যদের জন্য শিক্ষার উদাহরণ হওয়ার অপেক্ষা করি?’
তিনি বলেন, মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি এবং স্বভাবগতভাবেই দুর্বল ও ভুলপ্রবণ। তাই কোনো ভুল বা পদস্খলনের কারণে লজ্জিত হওয়ার বিষয় নয়; বরং ভুলের পরও গুনাহের ওপর অটল থাকা এবং তওবা না করাই উদ্বেগের বিষয়। একজন মুমিন ভুলের পর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আবার সঠিক পথে ফিরে আসে।
খতিব কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন জাতির পরিণতির কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আসা আসহাবে ফিলের পরিণতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের নিজের অবস্থান ও কর্মের হিসাব নেওয়া উচিত।
দ্বিতীয় খুতবায় তিনি মুসলিম সমাজের বিভিন্ন নৈতিক ও ধর্মীয় দুর্বলতার প্রতি সতর্ক করেন। এর মধ্যে শিরক, দ্বীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি, বিদআত, নামাজ ছেড়ে দেওয়া, মা-বাবার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, গুজব ছড়ানো এবং নসিহত প্রত্যাখ্যানের মতো বিষয় উল্লেখ করেন।
আত্মশুদ্ধি ও আত্মজিজ্ঞাসার পদ্ধতি তুলে ধরে শায়খ গাজাভি বলেন, জানা না থাকলে জিজ্ঞেস করতে হবে, ভুল পথে পা পিছলে গেলে ফিরে আসতে হবে, গুনাহ হয়ে গেলে তওবা করতে হবে এবং তওবা করার পর সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।
খুতবায় তিনি মুসলমানদের দুনিয়াতেই নিজেদের আমল ও কাজের হিসাব নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে আখেরাতের হিসাবের আগে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যায়।
আইও/