বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ।। ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৬ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
এনসিপির কর্মসূচিতে হামলায় চিরতরে আলো হারাল সেই আলিফের এক চোখ এবার মাদরাসা পরিচালকদের জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কওমী ও ন্যাশনাল কারিকুলামের সমন্বিত শিক্ষাবোর্ড ইতমিনানের সাফল্য রক্তমাখা পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ জুলাই যোদ্ধার অ্যাপে সমকামী ব্যক্তিকে হলে ডাকলেন ঢাবি ছাত্র, ভুল কক্ষে গিয়ে ধরা শায়েস্তাগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রিজভী বিএনপির সুপ্ত স্বৈরতন্ত্রের প্রকাশ ঘটেছে হবিগঞ্জে: ইসলামী আন্দোলন সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে স্কুল শিক্ষিকাকে হত্যা

মানব পাচারকারীদের দমন করতে হবে: রিজভী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

এনপিবি প্রতিবেদক:

কোনো অপরাধী চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা না দেখে মানব পাচারকারীদের দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ভবনের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন প্রণয়ন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা জরুরি। সমাজে আইনের শাসন থাকলে অপরাধী চক্র গড়ে উঠত না। এই অপরাধী চক্র সমাজেরই অংশ এবং সমাজের মানুষেরাই এসব চক্র গড়ে তুলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে এসব চক্র দমন করা সম্ভব হতো।

তিনি বলেন, আইনের শাসন না থাকার কারণে তৃণমূলে নানা ধরনের অবিচার ও নিপীড়ন হয়। অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষর মানুষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না এবং নিজেদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারেন না। এ কারণে তাঁরা নিগৃহীত হন।

রিজভী বলেন, অনেক কিছু না বুঝে মানুষ ফড়িয়া ও প্রতারক চক্রের কাছে সামান্য জমি-জায়গা বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন তারা মানব পাচারের শিকার হয়। প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর পথেই অথবা গন্তব্যে পৌঁছে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের আর কোনো সহায়-সম্বল থাকে না।

মানব পাচারকে দাসপ্রথার একটি অঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানব পাচারের রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। এর অন্যতম মূল কারণ রাষ্ট্রহীনতা। আরেকটি কারণ সীমিত সুযোগ। এর সঙ্গে বাস্তুচ্যুতিও মানব পাচারের অন্যতম কারণ।

বাল্যবিবাহ ও শিক্ষার অভাবকেও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত করে রিজভী বলেন, বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে সন্তান হওয়ার পর অনেকেই স্কুলে যেতে পারে না। নিজের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বোধ তৈরি হয় না। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে না পারায় এসব মানুষই মানব পাচারের বেশি শিকার হয়।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের বা উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মানব পাচারের শিকার হচ্ছে। মানব পাচার বন্ধে সরকারের শক্ত আইন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।

রিজভী বলেন, কোনো চক্রের কতটা প্রভাব রয়েছে, তা দেখার দরকার নেই। তাকে দমন করাই মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দাসত্বের বন্ধনে গরিব ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ নানাভাবে জড়িয়ে পড়বে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ