বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা

‘দেওবন্দ আন্দোলন; ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান’ ইতিবাচক সমালোচনাকে মোবারকবাদ : আনাম সাজিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুফতি আবু নাঈম মুহাম্মদ সাজিদ ||
‘দেওবন্দ আন্দোলন; ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান’ গ্রন্থ রচয়িতা আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া’র পুত্র

বইটি নিয়ে সৃষ্ট চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে অগ্রজ-অনুজ অনেকেই নানাবিধ সমালোচনা করেছেন, করছেন। যারা ইতিবাচক সমালোচনা করেছেন তাদের মোবারকবাদ জানাই। যারা কেবল নিরেট সমালোচনা করেছেন, আশা করছি, সমালোচনার সাথে সাথে তারা দুআ ও অনুপ্রেরণাও দিবেন।

বইটি নিয়ে বিগত চার বছর যাবত কাজ চলমান। এটি কেবল ইতিহাসের বই হলে কাজটি খুব একটা জটিল ছিল না। এটি একই সাথে নানাবিধ তথ্য-উপাত্ত, আন্তরিক ভাব-বোধ, চেতনা ও প্রেরণার খোরাক। এটি অসংখ্য- অগণিত বই-পুস্তক ও তথ্যভান্ডার ঘেঁটে, দিনরাত নির্ঘুম অধ্যাবসায় ও নিরলস সাধনা ও মেহনতের ফসল। সময় ও চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ভাব-ভাবনার সংমিশ্রণের পরই এই ছোট্ট কলেবরে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। বলা যায়, এক সুবৃহৎ পাঠাগারকে একটি পুস্তিকায় পরিবেশনের সুপ্রয়াস। উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শের পতাকাবাহী আগত প্রজন্মের জন্য যেসব বিষয় জানা একান্ত জরুরি বইটিতে সেসব বিষয়ে ভূমিকাস্বরূপ তথ্য-উপাত্ত সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বইটি যতবারই পরিমার্জনের জন্য কোশেশ করা হয়েছে, ততবারই মনে হয়েছে, লেখকের মূল আবেদন থেকে বারবার তা দূরে সরে যাচ্ছে, নতুন আরেকটি স্বতন্ত্র বইয়ের রূপ তৈরি হয়ে যাচ্ছে। নিরেট ইতিহাসের বই তো অসংখ্য আছে বা করা হচ্ছে। কিন্তু যে বোধ ও বিশ্বাসটুকু প্রজন্মের মনমুকুরে গেঁথে দেওয়া প্রয়োজন এবং যে মহৎ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে লেখক রহ. নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করে এই রত্নতূল্য গ্রন্থটি আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন মনে হয়, হুবহু তা বহাল রাখাই ইলমী ইনসাফের দাবি।

সবিনয় নিবেদন

১. বইটি যে সময়কালে রচিত তখন এ বিষয়ক পুস্তকের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না, যা ছিল তাও কিছু পাওয়া যেত, কিছু ছিল দুঃষ্প্রাপ্য। ইন্টারনেটও বহুল ব্যবহৃত ছিল না। সুতরাং সন-তারিখ ও তথ্য উপস্থাপনে কিছু প্রমাদ থেকে যাওয়া বিচিত্র নয়। এখন সবগুলো যাচাই করা হচ্ছে, এতে সময়ও ব্যয় হয় প্রচুর।

২. বানানের বিষয়টি আপেক্ষিক। সব কালে বানান একরকম থাকে না। সবার বানানরীতিও এক নয়। তারপরও যথাযথ নির্ভুল করার চেষ্টা করা হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ।

৩. বোদ্ধা পাঠক মাত্রই জানেন, একেকজন লেখকের ধাঁচ ও স্টাইল একেক রকম হয়। একেক জনের বাক্য ও প্যারাও ভিন্ন রকম হয়। একান্ত প্রয়োজন না হলে সেখানে কাটাছেঁড়া করা এক প্রকার মারাত্মক অপরাধ। সময়ের প্রেক্ষিতে সেটাও যথাসম্ভব পরিমার্জন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ।

৪. আগেই বলা হয়েছে, বইটিতে প্রয়োজনীয় মৌলিক বিষয়ে দিকনির্দেশ করা হয়েছে মাত্র। সুতরাং এতে কাট ছাঁট করা নিতান্ত অনুচিত। বরং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সংযুক্ত করে বইটিকে দুটি ভাগে ভিন্ন দুটি শ্রেণিতে পড়ানোই সময়ের দাবি।

এই মুহূর্তে জ্ঞানদরদী প্রাজ্ঞ আলেমদের কাছে সবিনয় অনুরোধ করছি, উক্ত কাজটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য যার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সে বিষয়ে আমাদেরকে অবশ্যই সহযোগিতা করবেন। আপনাদের সহযোগিতা কাজটিকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।  এর জন্য ইনশাআল্লাহ সম্মানি দেওয়া হবে।

আসুন, শুধু সমালোচনা না করে কাজের কাজ করি, একটি সুন্দর কাজ ও উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে সামনে অগ্রসর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ইনশাআল্লাহ এর জন্য আমরা অবশ্যই প্রথমে আল্লাহর কাছে, পরে উম্মাহর কাছে উত্তম বিনিময় পাবো। আল্লাহ সবার সহায় হোন। আমিন।

দুআর মুহতাজ
ইবনু আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহিমাহুল্লাহ

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ