বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা রাজশাহীতে ট্রাক-মাহিন্দ্রা মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ ‘যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বে গর্বের বিষয়’ অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয় সুযোগ দিয়ে দেখুন, মাদরাসার ছাত্ররাই বদলে দিতে পারে চিত্র ‘সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র বিনির্মাণের সংগ্রাম জোরদার করতে হবে’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অক্টোবরে, ২৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি খেলাফত মজলিস ইউকে সাউথ শাখার তরবিয়াহ মাহফিল অনুষ্ঠিত

অপরাধের বিচার হোক সমান চোখে, ধর্মীয় পরিচয়ে নয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আরিফ আজাদ

সর্দিজ্বরের অসুখ হওয়াতে, মা তার বাচ্চাকে নিয়ে গেছেন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে। বাচ্চাকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তিও করানো হয়।

তারপর, হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ঘটায় এক জঘন্যতম ঘটনা।

বাচ্চার মা’কে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে হাসপাতালের ছয় তলায় ডেকে নিয়ে যায় এবং সেখানে মহিলাকে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সেখানেই শেষ নয়। এই দৃশ্যকে তারা মোবাইলে ক্যামেরাবন্দীও করে এবং ভুক্তভোগী নারীকে হুমকি দিয়ে বলে, কাউকে জানাতে গেলেই এই ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নামগুলো বলি?

অমিত, অনিল আর প্রাঙ্গন। প্রত্যেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের।

গত রবিবারের ঘটনা। অপরাধীদের আটক করে জেলেও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপনি কি আপনার টাইমলাইনে এই ঘটনা নিয়ে কোনো শোরগোল শুনেছিলেন? মিডিয়াগুলোকে চিৎকার করতে দেখেছিলেন? মিনিটে মিনিটে লাইভ, প্রতিবেদন, স্পেশাল এপিসোড ইত্যাদি?

আমি আমার টাইমলাইনে কিছুই দেখিনি। বড় বড় কলামধারীদেরও দেখিনি দু’কলম লিখতে। তারা হয়তো ঘটনা আদৌ জানেও না।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা এই অপরাধে জড়িত বলে আমি লিখতে বসেছি ঘটনা এমন নয়। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষজনের অপরাধ তুলে ধরতে আমাদের দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া থেকে শুরু করে, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী আর কলামিস্টেরা কেমন যেন ইতস্তত বোধ করেন।

এই ঘটনা যে সকল মিডিয়াতে এসেছে, আমি সবগুলো সংবাদের ফটোকার্ড খেয়াল করেছি। কোনো ফটোকার্ডেই সম্প্রদায়টির নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়নি—‘তিন হিন্দু যুবকের হাতে ধরষিত হলেন এক নারী।’

এতে আমার সবিশেষ আপত্তিও নেই। ব্যাপারটা তো আসলে তাই হওয়া উচিত। ব্যক্তির অপরাধের জন্য ধর্ম, সম্প্রদায়, জাত, প্রতিষ্ঠান কেন টানতে হবে?

কিন্তু এই রেওয়াজ বা প্র্যাকটিসটা তারা কতোটা মুসলমান, বা আরও নির্দিষ্টভাবে বললে ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদরাসা সংশ্লিষ্ট মানুষদের বেলায় মানেন?

এই ঘটনায় যদি কোনো দাড়িটুপি ওয়ালা জড়িত থাকত, তাদের সংবাদ আর ফটোকার্ডের ভাষা ১৮০ ডিগ্রী উল্টো হতো।

এই যে এই বৈষম্যটা, এটা এই দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়া খুব সচেতনভাবেই করে থাকেন। ভাষার ব্যবহার দিয়ে তারা কারও অপরাধকে লঘু করে ফেলেন, আবার একইভাবে কারও অপরাধকে বানিয়ে ফেলেন ধরণী ধ্বংসের সম্ভাব্য কারণ।

সে যাহোক, অমিত, অনিল আর প্রাঙ্গন নামের এই তিন অপরাধীর কী শাস্তি হয়, সেটার দিকে নজর রাখাও কর্তব্য৷ এই রাষ্ট্র কোথায়, কার বেলায় কীরকম রেসপন্স করছে সেটাও আমাদের বোঝার আছে।

আশা করি রাষ্ট্র কোনো অপরাধীকে সম্প্রদায় বিবেচনায় দেখবে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী—ব্যস।

লেখক: অ্যাকটিভস্ট, গ্রন্থ প্রণেতা ও চিন্তক

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ