বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইলমি সংকট নিরসনে মাদরাসা দায়িত্বশীলদের জন্য কিছু কথা ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুলিশের জন্য গাড়ি কিনছে সরকার দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের যা ঘটলো, এর জন্য আসলে দায়ী কে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ

সমঝোতা বা জোট থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে দায়ী করবো ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিহীনতাকে। তারা আশ্বাস, সম্ভাবনা, শঙ্কা, আস্থা ও নিশ্চয়তার সমস্ত পয়েন্ট জামায়াতের ঝুড়িতে জমা দিয়ে রেখেছিলেন। জোটপ্রয়াসী রাজনীতিতে এটা ঠিক না। এমনকি আসন নিয়ে আট-দশ মাস আগে থেকে বোঝাপড়া ও হিসাব নিকাশে যাওয়ার কোনো দরকারই তারা মনে করেন নাই। তাছাড়া জামায়াতের সঙ্গে জোটের আমেজে তারা বিএনপি'র সঙ্গেও দূরত্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন, অথচ ওই দলের দরজাটা রাজনৈতিক দরকষাকষির সুবিধার্থে তাদের জন্য খোলা রাখা দরকার ছিল। অন্য ইসলামী দলগুলোর সঙ্গেও জোট ও বোঝাপড়া থাকা দরকার ছিল। এই না থাকাটাই তাদের রাজনীতিহীনতা ও কৌশলহীনতা। নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ার ক্ষেত্রে যেটার দায় অনেক বেশি।

দ্বিতীয়ত, দায়ী করবো জামায়াতের অতি-রাজনীতিকে। অধিক বাস্তববাদিতার কারণে জামায়াত তো ৬ মাস আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের সাথে অমীমাংসিত আসন সংখ্যা ও আসন নির্ধারণ এবং চাহিদার অসমতা শেষ মুহূর্তে একটা অস্বস্তিকর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ শঙ্কাটাকে তারা কি ইচ্ছা করেই একটা উপায়হীন এন্ডিংয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন? রাজনৈতিক কারণে ও ভোটব্যাংক বড় করার স্বার্থে জোটের পরিধি তারা বড় করছিলেন, এটা ভালো। কিন্তু এর সঙ্গে সূচনা পর্বের জোটসঙ্গী ইসলামী আন্দোলনের আস্থাটাকে সঙ্গে রাখা দরকার ছিল। আস্থাটা থাকেনি, অতি রাজনীতিতে জোট ভেঙ্গে গেছে। দৃশ্যটা সুন্দর হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী রাজনীতির চলতি অংকে নগদ ক্ষতিটা বেশি হয়ে গেল ইসলামী আন্দোলনের। অবশ্য ভবিষ্যতে এর ফলে কোনো বেনিফিট আসবে কিনা সেটা ভবিষ্যতই বলবে। নির্বাচনের আগে এবং দীর্ঘ মেয়াদে জোটের রাজনীতিতে আস্থাহীনতার সংকটে পড়লো জামায়াত। তাদের প্রতি সহজে কেউ আর পূর্ব-আস্থা রাখবে না। অন্যরাও এনসিপির মতো ফাইনাল চুক্তি, চূড়ান্ত কথাবার্তা শেষ করে একসঙ্গে কিছু করার ঘোষণা দেবে। এর ফলে নির্বাচনের মূল সময়টাতেও জোটসঙ্গীদের মধ্যে আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় থাকবে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও জামায়াতের রাজনীতিশীল পদক্ষেপ কিংবা ঘোষণাকে দ্বিধা, সংশয় ও পরীক্ষার চোখে দেখবে। আর ইসলামী আন্দোলন সাথে না থাকায় অনেক আসনে কিছু ভোটের কারণে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর বিজয়ের সিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।

রাজনীতিতে স্থির কোনো যোগ-বিয়োগ নাই। শত্রু-মিত্রও অনেক সময় প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। অনেক সময় ধারণার বাইরেও অনেক ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে যায়। প্রাক-নির্বাচনী অনেক অনুমান সঠিক কিংবা ভুল হয়। সুতরাং এসব বিবেচনাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে না দেখে স্বাভাবিকভাবেই দেখা ভালো।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, আলোচক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ