রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো কেন বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে ব্যর্থ?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মো: ইমরান হুসাইন বিন মুদ্দাচ্ছির ||

বর্তমান বিশ্বে ইলমে ওহীর খিদমতে নববী মানহাজের যতগুলো ধারা ও পদ্ধতি রয়েছে, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপকারী, নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল মানহাজ হলো দেওবন্দি মানহাজ। এটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিশুদ্ধ আকীদা, সুন্নাহ ও আকাবিরদের অনুসৃত পথের এক অনন্য ধারক ও বাহক। ওহীভিত্তিক জ্ঞানভাণ্ডারের যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এর শাখা-প্রশাখাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আল্লাহর দরবারে এই মানহাজ এতটাই কবুলিয়্যাত লাভ করেছে যে, বর্তমান বিশ্বে দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে ইউরোপ-আমেরিকা, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সহ প্রায় ষাট থেকে সত্তরটি দেশে এই পদ্ধতিতে শিক্ষাকার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং এর পরিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধারায় ইসলামী শিক্ষার এক স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাম অগ্রগণ্য।

বাংলাদেশ ব্যতিরেকে ভারত ও পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী মাদরাসাগুলোতে প্রচুর বিদেশি শিক্ষার্থীর সমাগম লক্ষণীয়। সে দেশের বড় বড় প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যে কারও নজর কাড়বে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ-আমেরিকাসহ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু শিক্ষার্থী পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনে মগ্ন রয়েছেন। অথচ আমাদের এই উর্বর জনপদে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কওমি মাদরাসা থাকা সত্ত্বেও হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। এর অর্থ এই নয় যে, দেশের মাদরাসাগুলো মানের দিক থেকে পিছিয়ে আছে; বরং ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে পড়াশোনা অনেক বেশি গভীর, বিস্তৃত ও মানসম্মত। তবে প্রশ্ন জাগে, মৌলিক সমস্যাটি ঠিক কোথায়? মূলত কিছু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতাই এর মূল অন্তরায়। এই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো অতিক্রম করতে পারলে আমাদের মাদরাসাগুলোও একদিন বিদেশি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে।

আমাদের মূল সংকটগুলো কোথায় এবং কীভাবে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—তার একটি রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক বহুমুখিতা:

আমাদের মাদরাসাগুলোর অন্যতম প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো ভাষা। বাংলা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষা হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর বিস্তার সীমিত। তাই বাংলার পাশাপাশি আরবি ভাষায়ও পাঠদান চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে দেশীয় শিক্ষার্থীরা যেমন আরবিতে সাবলীল ও পারদর্শী হয়ে উঠবে, তেমনি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও অধ্যয়নের পথ সুগম হবে। পাকিস্তানের প্রথিতযশা মাদরাসাগুলোতে ইবতেদাইয়্যাহ থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত আরবি ও উর্দু—উভয় ভাষাতেই পাঠদানের সুব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মাধ্যম বেছে নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ লাভ করে থাকে।

২. পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ:

আমাদের আকাবির ও আসলাফের অমূল্য মীরাস ‘দরসে নিজামী’ তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও আধ্যাত্মিক আবহ বজায় রেখেই যুগের চাহিদা অনুযায়ী কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করা সময়ের দাবি। বিশেষ করে ‘উলুমুল আকলিয়্যাহ’ বা সহায়ক জ্ঞান শাখা—যেমন মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), ফালসাফা, ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চর্চায় আরও গভীর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সমকালীন বিশ্বের বহুমুখী পরিস্থিতি এবং আধুনিক মতবাদগুলোর সঙ্গে পরিচিত ও সচেতন করে তুলতে হবে। দরসে নিজামীর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শাস্ত্র বা ফনের প্রতিটিতেই শিক্ষার্থীরা যেন বুৎপত্তি অর্জনে সক্ষম হয়, সে বিষয়ে গভীর দৃষ্টিপাত করা বাঞ্ছনীয়।

৩. গবেষণা ও লেখার চর্চা বাড়াতে স্বতন্ত্র বিভাগ (দারুত তাসনিফ) চালু করা:

আমাদের মাদরাসাগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা বেশ শক্তপোক্ত হলেও নিয়মিত লেখালেখি ও গবেষণার চর্চায় এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। হাতে গোনা দু-চারজন ছাড়া বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো মৌলিক ও গবেষণালব্ধ গ্রন্থের উপস্থিতি বেশ কম। অথচ বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হলে প্রাজ্ঞ আলেমদের লেখালেখির মাধ্যমে নিজেদের চিন্তাধারা ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হবে। এই শূন্যতা কাটাতে প্রতিটি মাদরাসায় আলাদাভাবে ‘দারুত তাসনিফ’ বা গবেষণা ও গ্রন্থনা বিভাগ খোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সদ্য পড়াশোনা শেষ করা (ফারেগ হওয়া) মেধাবী শিক্ষার্থী কিংবা যাদের লেখালেখিতে বিশেষ ঝোঁক রয়েছে, তাদের এই বিভাগে যুক্ত করতে হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে বর্তমান যুগের আধুনিক ও জটিল মাসআলা এবং সমসাময়িক নানা সংকট নিয়ে নতুন নতুন গবেষণা শুরু করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, সেই গবেষণালব্ধ লেখাগুলো শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।

৪. সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা:

গবেষণা এবং গভীর অধ্যায়নের প্রকৃত কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। বর্তমান সময়ের চাহিদা মেটাতে প্রতিটি মাদরাসায় একটি সুসজ্জিত লাইব্রেরি থাকা অত্যন্ত জরুরি, যেখানে তাফসীর, হাদিস, ফিকহ, উসূলে ফিকহ ও সমসাময়িক বিষয়ের পর্যাপ্ত গ্রন্থ থাকবে। তবে কেবল গ্রন্থের সমাহারই যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষার্থীরা যাতে নিরিবিলি পরিবেশে দীর্ঘক্ষণ বসে একাগ্রতার সঙ্গে পড়াশোনা ও গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে পারে, সেটির জন্য লাইব্রেরিতে সুশৃঙ্খল ও উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

৫. বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও ভাষা প্রশিক্ষণ:

শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে নিয়মিত সেমিনার ও সাহিত্যিক বৈঠকের আয়োজন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষার বিশেষ ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দাওয়াতি ও বহুমুখী খিদমাত আঞ্জামে জোড়ালো ভূমিকা পালন করতে পারে।

৬. প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার:

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রাতিষ্ঠানিক প্রচার ও যোগাযোগের সুদৃঢ় মাধ্যম হিসেবে প্রতিটি মাদরাসার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা একান্ত অপরিহার্য। উক্ত ওয়েবসাইটে মাদরাসার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, ফাতওয়া, নেসাবে তালীম, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং যাবতীয় আপডেট নিয়মিত প্রকাশের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে দেশ-বিদেশের যেকোনো শিক্ষার্থী খুব সহজেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট কোটার আওতায় অনলাইন ফরম পূরণের মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ লাভ করবে।

৭. অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে সরব উপস্থিতি:

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের কথা ও কাজ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় নিয়মিত লেখালেখি এবং নতুন নতুন গবেষণামূলক কাজ প্রকাশ করা সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে বহির্বিশ্বের মানুষের সামনে আমাদের দেশের উলামায়ে কেরামের যোগ্যতা ও অবদান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গবেষক ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়িয়ে কাজ করার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশের প্রাজ্ঞ আলেমসমাজ ও তাদের বহুমুখী অবদান বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত ও সমাদৃত হয়ে উঠবে।

৮. সরকারি সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সহজীকরণ:

বহিরাগত শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ও আইনি জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ‘মুআদালা’ (সমমান) চুক্তি সম্পাদন করা যেতে পারে, যেন উভয় দেশের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যাতায়াত ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ ও নির্বিঘ্ন হয়।

৯. আবাসিক সুযোগ-সুবিধা ও সুচিকিৎসা:

মানসম্মত খাবারদাবার এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সুশৃঙ্খল আবাসন নিশ্চিত করা দেশি-বিদেশি সকল শিক্ষার্থীর জন্যই সমানভাবে জরুরি। বিশেষ করে প্রবাসের মাটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের কষ্ট বা অস্বস্তি অনুভব না করেন, সেদিকে বাড়তি যত্ন নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে সুচিকিৎসাসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক আন্তরিকতা কাম্য।

১০. আইনি সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:

বিদেশি শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের জন্য বিশেষ প্রটোকল ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ কেবল বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, অপপ্রচার বা উগ্রসুলভ অপচেষ্টা থেকে মাদরাসাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতেও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

বিদেশি শিক্ষার্থী আগমনে মাদরাসাগুলোর চূড়ান্ত প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পদচারণা ও উপস্থিতিতে যখন মাদরাসাগুলোর প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক মহলে কওমি মাদরাসার উপযোগিতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আলেমদের হারানো ঐতিহ্য ও সম্মান আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি সব ধরনের অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সহজতর হবে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে।

পরিশেষে বলা যায়, দ্বীনি শিক্ষার এই সোনালী চেরাগগুলোকে কেবল ঘরের কোণায় আলো ছড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর বৈশ্বিক সুফল থেকে উম্মাহ বঞ্চিত হবে। সময়ের দাবি মেনে আমাদের মাদরাসাগুলোকে নিজস্ব স্বকীয়তা ও ইখলাসের মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আধুনিক যুগের উপযোগী করে তুলতে হবে। ভারতের দেওবন্দ বা পাকিস্তানের বড় বড় জামিয়াগুলোর মতো আমাদের মাদরাসাগুলোও যদি ভাষা, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দুয়ারগুলো উন্মুক্ত করে দেয়, তবে বিশ্বমঞ্চে বাংলার আলেমসমাজ আবারও তাদের হারানো ঐতিহ্য ও নেতৃত্ব ফিরে পাবে এবং এই জনপদ হয়ে উঠবে ইলমে নববীর এক আন্তর্জাতিক দীপ্তকেন্দ্র। ইখলাস ও আধুনিকতার এই সুষম মেলবন্ধনেই নিহিত রয়েছে আমাদের মাদরাসা শিক্ষার প্রকৃত রূপান্তর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

লেখক: শিক্ষার্থী, উচ্চতর ফিকহ গবেষণা বিভাগ, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়্যাহ আল্লামা মুহাম্মাদ ইউসুফ বানুরী টাউন, করাচি, পাকিস্তান।

আইও/


সম্পর্কিত খবর