নিজস্ব প্রতিবেদক
‘পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে’—মর্মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকার কথা উল্লেখ করেছেন এবং দেশের বাইরে থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অর্থ সরবরাহের বিষয়েও গোয়েন্দা তথ্য থাকার দাবি করেছেন। বিষয়টি যেহেতু দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই এ সম্পর্কে সরকারের অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা প্রয়োজন।
মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এমন একটি গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে কিছু প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, কী ধরনের তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে এবং এর ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।”
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।”
মহাসচিব আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচারের পুনর্বাসন কিংবা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্ব। তবে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়াও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “সরকারের কাছে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকলে তার অগ্রগতিও যথাসময়ে জনগণকে অবহিত করা যেতে পারে। এতে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।”
মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, “দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পারস্পরিক আস্থা, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, সরকার রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবে।”
আইও/