পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসায় শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি অর্থের ব্যবহার ও শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র পাঁচজন। বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা ১৭ জন।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। পরিদর্শনকালে কয়েকজন শিক্ষককে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত কোনো হাজিরা খাতা দেখানো হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব মিয়া মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের একাধিক সদস্য বর্তমানে মাদরাসার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে পুত্রবধূ মাহফুজা আক্তার সুপার, মেয়ে নুরজাহান রাঢ়ি ইবতেদায়ি শিক্ষক এবং দুই ছেলে খাইরুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমান যথাক্রমে অফিস সহকারী ও নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী সংকট থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, এমপিওবিহীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ মাদরাসার মাধ্যমে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে সম্মানীর ভিত্তিতে শিক্ষক পাঠানো হয় এবং সেখানকার কিছু শিক্ষার্থীও এ মাদ্রাসার অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
স্থানীয়দের মতে, বছরের পর বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলেও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাহফুজা আক্তার বলেন, এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এবং বর্ষা মৌসুমে সড়ক ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
জেডএম/