মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

ফিলিস্তিনের পৌর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ফিলিস্তিনে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ফাতাহ সমর্থিত প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রার্থীরা। নির্বাচনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ আসনেই তাদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, এমনকি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও আসন পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ফল ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, কঠিন চ্যালেঞ্জ ও বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে এই নির্বাচন সুসম্পন্ন হয়েছে।

গত শনিবারের এই ভোট ছিল ২০০৬ সালের পর গাজায় প্রথম কোনো নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েলি হামলার পর প্রথম ফিলিস্তিনি নির্বাচন।

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে এই ভোটগ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে—গাজা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে গাজা শাসনকারী হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং তারা অধিকৃত পশ্চিম তীরে নির্বাচন বয়কট করে। তবে বিশ্লেষকগণ বলেন, কিছু তালিকায় হামাস-সমর্থিত প্রার্থীরা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে লক্ষ্য করা যায়।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত তালিকা ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী না দিলেও তাদের সমর্থিত বলে পরিচিত তালিকা ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ মাত্র দুটিতে জয় লাভ করেছে। বাকি ৭ আসনে—কোনো পক্ষের সাথে যুক্ত নয়—এমন দুটি স্থানীয় দল বিজয়ী হয়েছে।

পশ্চিম তীরে আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো আসনে তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হয়নি।

নির্বাচনে গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে তা ছিল ৫৬ শতাংশ বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ।

গাজায় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ এবং চলমান সংঘাতকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনি সরঞ্জাম ইসরায়েলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি। এছাড়া বিশাল জনপদ বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ হয়নি।

তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেকেই ভোট দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার প্রয়োগ করতেই তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজার একটি ছোট অংশে এই ভোট ফাতাহর জন্য রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে হামাসের শক্তিশালী ঘাঁটিতে আসন লাভ করা তাদের জন্য বড় অর্জন।

সূত্র: আল-জাজিরা

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ