বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের আহ্বান


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

মরক্কোর ঐতিহাসিক নগরী ফেজে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মানবসভ্যতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মরক্কোর বাদশাহ মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত সম্মেলনের সমাপনীতে প্রকাশ করা হয় ‘ফেজ মেসেজ অন হিউম্যান সিভিলাইজেশন অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’।

সম্প্রতি Euromed University of Fes আয়োজিত ‘দ্য ফিউচার অব হিউম্যান সিভিলাইজেশন ফেসিং দ্য চ্যালেঞ্জেস অব এআই’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বিশ্বের ৭৫টি দেশের দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সৌদি ইসলামি চিন্তাবিদ, আলেম ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব শাইখ ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ঈসা। এছাড়া জাতিসংঘ অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

No description available.

সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির অগ্রগতির জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে এ প্রযুক্তির বিকাশ অবশ্যই মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সার্বজনীন মূল্যবোধের কাঠামোর মধ্যে হতে হবে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এআই পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা ও ব্যাখ্যাযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে মানুষের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হয়। একই সঙ্গে অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, তথ্যের মান এবং ডেটা ব্যবহারের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ঘোষণাপত্রে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে এআই-এর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তথ্য সুরক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিরোধে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

No description available.

সাইবার নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি, আগাম সতর্কতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথাও সম্মেলনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য বিবেচনায় রেখে এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়, যাতে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও প্রযুক্তিতে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যায়।

সম্মেলনে বক্তারা যুবসমাজ, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে বিনিয়োগকে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমাপনী ঘোষণায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সেতুবন্ধন তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।

সম্মেলনে চারটি মূল অধিবেশন ও পাঁচটি সমান্তরাল সেশনে এআই গভর্ন্যান্স, স্বাস্থ্যখাতে এআই-এর ব্যবহার, সহাবস্থান, নৈতিকতা, সাইবার নিরাপত্তা, স্মার্ট সিটি এবং ভবিষ্যৎ সভ্যতার নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ