শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ।। ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৫ মহর্‌রম ১৪৪৮


দুই সপ্তাহে নিহত ২৪, কেন বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক—

পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে বিক্ষোভ। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত শত। নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক বৈষম্যের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে আজাদ কাশ্মীর।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজাদ কাশ্মীরের ৪৫ আসনের আইনসভা নির্বাচনকে ঘিরেই মূলত এ অস্থিরতার সূত্রপাত। নির্বাচন ব্যবস্থায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি), যাকে সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত আসনের এ ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং নির্বাচনী ভারসাম্য নষ্ট করবে। একই সঙ্গে তারা দীর্ঘদিন ধরে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

জেএএসি সর্বাত্মক ধর্মঘট ও লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ৬ জুনের পর সহিংস রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৬ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ।

অন্যদিকে আজাদ কাশ্মীর পুলিশের প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘর্ষে চারজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫১৫ জনের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।

ব্যাপক ধরপাকড় ও নিরাপত্তা অভিযান সত্ত্বেও আন্দোলন থামেনি। হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বর্তমানে আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের রাওয়ালকোট এলাকায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান সড়কগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট সেবা। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে গণমাধ্যমের প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি ইসলামাবাদের জন্য একটি অস্বস্তিকর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সমালোচনা করে এলেও এবার নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডেই জনঅসন্তোষ, সহিংসতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে চাপের মুখে পড়েছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নির্বাচনী সংস্কার, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই আজাদ কাশ্মীরের চলমান আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ