রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ।। ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৩ মহর্‌রম ১৪৪৮


কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাটিতে ইরানের ক্ষেপানস্ত্র হামলা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

চলমান উত্তেজনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এই পাল্টাপাল্টি আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান। এই নজিরবিহীন হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, আইআরজিসির নৌ ও বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই অপারেশন পরিচালনা করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল: ১. কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি ‘আলী আল সালেম এয়ারবেস’। ২. বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী ‘পঞ্চম নৌবহর’।

আইআরজিসির দাবি, এই হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ‘শত্রুভাবাপন্ন লক্ষ্যবস্তু’ মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। ওয়াশিংটন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।      

আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা বা যেকোনো শত্রুর পক্ষ থেকে সামান্যতম আগ্রাসন চালানো হলেও তার জবাব দেওয়া হবে ‘বিধ্বংসী শক্তি’ দিয়ে।

ইরানের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের পর বাহরাইনে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইনের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ওমান। ওমান সরকার এক বিবৃতিতে ইরানের এই ড্রোন ও মিসাইল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বাহরাইনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি। ওমানের আগে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

ইরান হুমকি দিয়েছে, যদি আমেরিকা তাদের ওপর হামলা বন্ধ না করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সমস্ত তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ