সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন

‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক

দেশের রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর অবস্থান, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা, নির্বাচন-পরবর্তী সম্পর্কের বাস্তবতা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের সংকট এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এসব বিষয় নিয়ে আওয়ার ইসলামের মুখোমুখি হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট করা মানে সরকারের সব সিদ্ধান্তে নীরব সমর্থন দেওয়া নয়; বরং ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুলের সমালোচনা—দুটিই তাদের রাজনৈতিক নীতির অংশ। পাশাপাশি তিনি তুলে ধরেছেন দলীয় কৌশল, স্থানীয় নির্বাচন, তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং ইসলামি রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে জমিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলাম সম্পাদক মুফতি হুমায়ুন আইয়ুব। শ্রুতিলিখন করেছেন সহসম্পাদক যাকারিয়া মাহমুদ

আওয়ার ইসলাম: গত জাতীয় নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিল। তবে নির্বাচনপরবর্তী কিছু বক্তব্য-বিবৃতির কারণে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, আপনারা আসলে সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে?

মাওলানা আফেন্দী: আসলে এখানে বিভ্রান্তির কিছু নেই, আমাদের সম্পর্কে মানুষের জিজ্ঞাসা ও কৌতূহল থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। দেশের এই পরিস্থিতিতে আমরা বিএনপির সাথে চার আসনে সমঝোতা করেছি। এর বেশি চাহিদা যে আমাদের ছিল না, তা না; বরং চাহিদা আমাদের ছিল, চাহিদার বাস্তবতা ও ভালো রেজাল্টের আশা ছিল। তা সত্ত্বেও দেশ-জাতি ও ইসলামের কথা বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিই এবং বাকি সমস্ত আসনে আমরা বিএনপির সমর্থক হয়ে তাদের পাশে থাকি। আমাদের এই সমর্থনের কথা বর্তমানের অনেক মন্ত্রীই সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আওয়ার ইসলাম: আমরা দেখছি, সম্প্রতি এমন কিছু দাবি জানিয়ে আপনারা সভা-সমাবেশ করছেন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছেন, যেসব দাবিতে বিরোধী দলীয় ভাব ফুটে ওঠে, এ ব্যাপারে আপনার কী বক্তব্য?

মাওলানা আফেন্দী: আসলে বিষয়টা যেমন ভাবা হচ্ছে তেমন না। আমরা বিএনপির সাথে এ শর্তে সমঝোতা করিনি যে, তারা কোনো ভুল করলে বা জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হলে তার প্রতিবাদ করতে পারব না। বরং বিএনপির ভালো কাজগুলোকে যেমন সমর্থন দেবো, দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের মন্দ কাজগুলোর তেমনই প্রতিবাদ করব। আমরা ভালোকে ভালো এবং খারাপকে খারাপ বলব- এটাই আমাদের নীতি এবং আদর্শ।

আওয়ার ইসলাম: বিএনপির পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও চার-চারটি আসনেই আপনারা পরাজিত হলেন। এটা ঠিক কী কারণে হয়েছে বলে আপনারা মনে করেন?

মাওলানা আফেন্দী: আমরা তো প্রায় নিশ্চিত ছিলাম সফলতার ব্যাপারে। তা সত্ত্বেও চার-চারটি আসনেই পরাজয়ের ব্যাপারে যে কারণগুলো আমরা লক্ষ করেছি, তার প্রথমটি হলো- বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত এবং বিদ্রোহী যারা ছিলেন, তারা সাধ্যের সবটুকু নিংড়ে আমাদের পরাস্ত করতে মাঠে নেমেছিল। যার কারণে একটা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের সময়টা আমাদের পার করতে হয়েছে। তাছাড়া আরও বহুমাত্রিক কারণ ছিল এবং আছে এর পেছনে। যেমন, আমরা এখনো শুনতে পাই, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারও নাকি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ জানানোর কারণে আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল, আর প্রশাসন যেহেতু সে সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ছিল, তাই আমাদের এই ব্যর্থতায় সে সরকারসহ যারা আমাদের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট ছিলেন তাদের সবার হস্তক্ষেপ থাকতে পারে।

আওয়ার ইসলাম: আপনারা বিএনপিতে পূর্ণ সমর্থন জুগিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিএনপির সরকার গঠনে কোথাও কোনো স্থানে আপনাদের রাখা হলো না, এতে কি বিএনপি আপনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মনে করেন?

মাওলানা আফেন্দী: না এত বড় অভিযোগ আমরা টানব না। কারণ, বিএনপি সরকার গঠন করলে আমাদের অবস্থান কোথায় হবে, আমাদের তারা কী দেবে না দেবে, সে সব বিবেচনা করে তো আমরা সমঝোতায় বসিনি। আমাদের নির্বাচনি মাপকাঠিতে এটা ছিল না। চুক্তির সময়ে তাদের কাছে আমাদের যে দাবি ও চাওয়া ছিল, তা হলো আমাদের মাদরাসা-মসজিদ, ইসলামি কালচার ইত্যাদি অক্ষত রেখে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে আমরা পথ চলতে চাই, আমাদের এই অধিকারে যেন তারা পূর্ণ সমর্থন জোগায় এবং অধিকার যেন খর্ব না-হয়। মূলত, আমাদের লাভ যা হওয়ার হবে, অন্তত ক্ষতি হবে না যাদের সাথে গেলে তাদের সাথেই গিয়েছি আমরা। তবে তারও আগে আমাদের আন্তরিক বাসনা ছিল, জামায়াত-বিএনপি কারো সাথে না গিয়ে কওমি ঘরানার সবাই মিলে আলাদা জোট করা। এটা হলে বেশ ভালো হতো। কিন্তু তা তো হয়নি। তাই অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যতের লাভ-লোকসান সবকিছুর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি। এখন নির্বাচনের পর বিএনপি আমাদের ডাকল কি না আমাদের কোনো পদে রাখল কি না এসবকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না।

আওয়ার ইসলাম: কওমি ঘরানার দলগুলোর ঐক্যের কথা বললেন, ইসলামি দলগুলো তো সে চেষ্টাই করেছিল। তা সত্ত্বেও আপনাদের ঐক্যে না যাওয়ার কারণ কী ছিল?

মাওলানা আফেন্দী: শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা আগেই বলেছি, আমরা কোনোদিন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে জোট করব না। তারপরও আমরা যখন দেখলাম, কওমি ঘরানার দলগুলো ওই সোসাইটির সাথে ওঠাবসা করছে, তাদের কাজে সহায়তা করছে, তখন তাদের এসব কর্মকাণ্ড আমরা ইতিবাচক নিতে পারিনি, যার কারণে আমরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছি।

আওয়ার ইসলাম: জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক বলেছেন, ‘বিএনপি আমাদের সাথে যে আচরণ করছে তার জন্য তাদের ভুগতে হবে’। এটা কি তার ব্যক্তিগত অভিমত নাকি দলীয়?

মাওলানা আফেন্দী: সাধারণত, সভাপতির মতো দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কথা বলেন, তখন সেটাকে ব্যক্তিগত মন্তব্য বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি এটা বলেছেন মূলত তৃণমূল পর্যায়ে যেসব কর্মী রয়েছেন, যারা নির্বাচনকালে জমিয়তের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত মনে কাজ করেছেন, তাদের সান্ত্বনা জোগানোর জন্য। কেননা, কর্মীদের ভেতর আক্ষেপ ও হতাশা কাজ করছিল—‘বিএনপির জন্য আমরা এতকিছু করলাম, মানুষের বঞ্চনার শিকার হলাম আর তারা আমাদের জন্য কী করল?’ সভাপতি সাহেব মূলত তাদের বোঝাতে চেয়েছেন, বিএনপি যদি আমাদের সাথে কোনোরকম অনৈতিক আচরণ করে তাহলে তার জন্য তাদের অবশ্যই ভুগতে হবে, হতাশার কিছু নেই। তাছাড়া, তারা আমাদের কী দিলো না দিলো—তোমরা সেদিকে তাকাচ্ছো কেন? আমরা চেয়েছিলাম, বিএনপি সরকার করুক, সেটি তো হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম: বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট করা কি আপনাদের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?

মাওলানা আফেন্দি: মোটেই না; এখন তো আরও স্পষ্ট বিএনপির সঙ্গে আমাদের জোট কতটা যথার্থ ছিল। আমরা তাদের সাথে একক কোনো চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে জোট করিনি। দলীয় ফোরামে, পরামর্শের সুন্নত  অনুসরণ করে এবং বুঝেশুনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আপনি নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের শীর্ষ ও প্রতিনিধিত্বশীল আলেমদের ডেকে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। সুতরাং পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর এই কথা কি বলার সুযোগ আছে, আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল? রাসুল সা. তো পষ্ট করেই বলেছেন, ‘সে ক্ষতিগ্রস্ত নয়, যে ইস্তেখারার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং অনুতপ্ত হতে হবে না যে পরামর্শের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’ সুতরাং আমরা রাসুলের হাদিসের ওপর আমল করে এ কথা কীভাবে ভাবি আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল? আজ থেকে ৫-৭ বছর পর এ দেশের কওমি অঙ্গন ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ অবশ্যই অনুভব করবে আমাদের সিদ্ধান্ত কতটা যথার্থ ছিল।

আওয়ার ইসলাম: জমিয়ত জাতীয় দল না-হয়ে আলেম-উলামা এবং কওমিকেন্দ্রিক দল হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকের অভিযোগ। সাংগঠনিক দুর্বলতা, জেলা-উপজেলা পর্যায়েও এ দলের সদস্য কম—এমন বহুমাত্রিক অভিযোগ শোনা যায় চারপাশে। দলের এই সংকট দূরীকরণে এবং দলকে সক্রিয় করতে পরিকল্পনা কী?

মাওলানা আফেন্দি: বাংলাদেশের সব জেলায় যে আমরা দুর্বল, আমরা শুধু মাদরাসাকেন্দ্রিক দল বা ছাত্রনির্ভর দল- এ কথাগুলো পুরোপুরি সঠিক না। হ্যাঁ, কিছু স্থানে আমাদের দুর্বলতা আছে, তবে অনেক স্থানে আমরা শক্তিশালী। এর প্রমাণ হিসেবে বলি, এবারের নির্বাচনে আমরা যে পরিমাণ ভোট পেয়েছি, ২০০১ সালে এসব আসনে বিএনপি-জামায়াত জোট মিলেও সে পরিমাণ ভোট পায়নি।

আওয়ার ইসলাম: ভোট পাওয়া আর সাংগঠনিক সক্ষমতা কি এক জিনিস?

মাওলানা আফেন্দি: না তা নয়। তবে, নির্বাচনে সাফল্যের জন্য সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রয়োজন হয় এবং ভোটের মাধ্যমে একটা সংগঠনের সক্ষমতাও প্রমাণ হয় এ কথাও তো অস্বীকারের সুযোগ নেই। সব ছাপিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতার বিষয়ে আমাদের জানা আছে এবং একেক স্থানে আমাদের সক্ষমতা এবং অবস্থান একেকরকম সে ব্যাপারেও আমরা অবগত। আর আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করার পরিকল্পনা হলো, আমরা আমাদের জেলা ও উপজেলার অধীনে থাকা ইউনিয়নগুলোকে আমরা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসছি, কীভাবে আরও সুন্দর করা যায়, সংগঠন আরও গোছানো ও সুন্দর করা যায়, সে কাজ চলমান। আলহাদুলিল্লাহ, আমরা আগে থেকে এখন অনেকটা সামনে এগোতে পেরেছি। আশা করি আগামী দিনে আরও ভালো হবে।

আওয়ার ইসলাম: সামনে স্থানীয় নির্বাচন, জমিয়ত কি সেখানে বিএনপির সাথে জোট করে নির্বাচন করবে নাকি পৃথকভাবেই অংশগ্রহণ করবে?

মাওলানা আফেন্দি: আমাদের এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত, আমরা এককভাবেই নির্বাচন করব।

আওয়ার ইসলাম: স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আপনাদের প্রস্তুতি কতদূর?

মাওলানা আফেন্দি: আমরা বিভিন্ন জেলা-মহানগর শাখাকে বার্তা দিয়েছি, যেন অধীনস্থ উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

আওয়ার ইসলাম: অনেকের অভিযোগ জমিয়তে তরুণ নেতৃত্বের ঘাটতি আছে, এ শূন্যতা পূরণ এবং তরুণ নেতৃত্ব তৈরির জন্য মহাসচিব হিসেবে আপনার প্রচেষ্টা কী?

মাওলানা আফেন্দি: এই তথ্যটা শতভাগ সঠিক নয়; অনেক মেধাবী তরুণ আমাদের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের সদস্য। তাছাড়া, তরুণ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে ছাত্র ও যুব জমিয়ত নামে যে দুটি অঙ্গ সংগঠন আছে আমাদের, এ দুটিকে আমরা ব্যাপক কর্মসূচির আওতায় এনেছি। তারা ব্যাপকভাবে কাজ করছে, কাজের ধরন আগে থেকে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে। আমি আশা করি তারা এভাবে আন্তরিকতার সাথে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে শাখাদল দুটো থেকে বহুসংখ্যক তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। এবং যারা আসছে আমরা তাদের প্রতিভাগুলোকে যথাযথ মূল্যায়ন করে, যথাস্থানে পদায়িত করে রাজনীতিতে তাদের সুযোগ করে দিচ্ছি, সহযোগিতা করছি।

আওয়ার ইসলাম: জুলাই সনদ কার্যকরের ব্যাপারে ইসলামি দলগুলো আন্দোলন সমাবেশ করে আসছে, এ বিষয়ে জমিয়তের অবস্থান কী?

মাওলানা আফেন্দি: আমরা শুরু থেকেই জুলাই সনদ কার্যকরের পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। এবং এ কার্যকরের দাবি জানিয়ে বেশ কয়েকবার প্রেস বিজ্ঞপ্তি, প্রেস ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলন করেছি। ১২ মে’র প্রেস কনফারেন্সে আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হওয়ার অর্থ হলো জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করা।

আওয়ার ইসলাম: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ৫ মাস অতিক্রম করছে, জোটসঙ্গী হিসেবে এ সরকারকে আপনারা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মাওলানা আফেন্দি: ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ যে কার্যক্রমগুলো সরকার চালু করেছে আমরা সেগুলোকে স্বাগত ও সাধুবাদ জানাই। এর মধ্যে কিছু কাজ তো বেশ প্রশংসনীয়। যেমন, কেউ একজন মশকনিধন শেখবার জন্য বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তার কথার প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তোমরা ডোবার কাছে বসে থাকলেই মশক নিধন শেখা হয়ে যাবে। এছাড়া, ট্রাফিকব্যবস্থার উন্নয়ন, চীন সফর, ট্রাফিক আইনসহ বেশকিছু কাজকে আমরা পজেটিভ দৃষ্টিতে দেখছি। তারপরও জোটসঙ্গী হিসেবে আমরা সরকারকে কয়েকটি বিষয়ে পরামর্শ দিই—মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যেন সমন্বয় করে পরস্পর সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। যাতে করে পরবর্তী সময়ে কোনো বিপর্যয় তৈরি না হয়। যারা বিগত স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, তাদের খোঁজখবর রাখা এ সরকারের একান্ত দায়িত্ব মনে করি। সরকারের যে ৫ বছরের মেয়াদ রয়েছে, এ সময়টায় সজাগ, সতর্ক দৃষ্টি এবং দূরদর্শিতার সাথে পথচলা উচিত।

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির কতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে এবং সংকটগুলো কী কী?

মাওলানা আফেন্দি: ইসলামি রাজনীতির মাঝে বহুসংখ্যক সংকট বিরাজমান। ইসলামের মৌলিকত্ব অক্ষত রেখে সমস্ত ইসলামি দল একত্র হওয়া আমি মনে করি একটা অপরিহার্য বিষয়। দুর্ভাগ্যবশত, এ বিষয়টা দৃশ্যমান হচ্ছে না। কারণ, আমাদের মাঝে এমনকিছু ব্যাধি আছে, যা রাজনীতিবিদ হিসেবে আমাদের মাঝে থাকা মোটেই সমীচীন নয়। আমাদের মাঝে একজন অপরজনকে সম্মান করার মানসিকতা নেই, পরস্পরকে বোঝার জায়গাটায় আমরা বেশ কৃপণ, আমরা খুব সংকীর্ণমনা, পরস্পর বিদ্বেষ ও হিংসা আমাদের মাঝে তেমনভাবে নেই। এরকম যে ব্যাধিগুলো আছে আমাদের মাঝে, সে ব্যাধিগুলো না-সারা অবধি বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতি খুব একটা সফল হবে না।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ