সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড় জামায়াত-শিবির কখনো ইসলামি দল হতে পারে না: সিরাত সম্মেলনে বক্তারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন রিকশা প্রতীকের আরও তিন প্রার্থী এলপিজি আমদানি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আসুন, শাপলা হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হই


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগ্রহিত

মনির আহমাদ

আজ ৫ মে— ইতিহাসের এক কালো দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে ঈমান ও আকিদাভিত্তিক শান্তিপূর্ণ দাবিতে শাপলা চত্বরে অবস্থানকারী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের লাখ লাখ তাওহিদি জনতার ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে ইতিহাসের এক নৃশংসতম গণহত্যা চালায় তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সরকার।

এতে শহীদ হলেন- শত শত মাদরাসার ছাত্র, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ। কেউ জানে না কত লাশ গুম করা হলো, কত মায়ের কোল খালি হলো, কত পরিবার আজো অপেক্ষায় দিন গুণছেন প্রিয়জনের ফিরে আসার।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর কেবল রক্তপাতেই শেষ হয়নি— সারাদেশে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আরও একধাপ দমন-পীড়ন চালানো হয়।

আজ দীর্ঘ ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নির্মম গণহত্যার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, হয়নি দায়ীদের বিচার। অথচ প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অন্যান্য দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন ও বিচারিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেও, শাপলা গণহত্যা ও হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

প্রশ্ন জাগে, শেখ হাসিনার দুঃশাসনের অন্যান্য অপরাধের বিচার হচ্ছে, তাহলে শাপলার শহীদদের রক্তের কী হবে? আলেম-ওলামা কি এই জাতির সন্তান নয়? ইসলামপন্থীদের কি ন্যায্যবিচার পাওয়ার অধিকার নেই?

এই ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে জাতি ভাবতে শুরু করবে, আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীদের সাথে বর্তমান সরকারও বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।

এ পর্যায়ে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি:

হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

শাপলা চত্বর গণহত্যার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রকাশ এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রয়োজনে এই দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।

আজকের এই স্মৃতিবহ দিনে আমরা সবাই সোচ্চার হই। ন্যায়ের পক্ষে ও শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে — আসুন শপথ করি, আমরা ন্যায়বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত থামবো না।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, মাসিক মুঈনুল ইসলাম

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ