ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।
বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি
এই হতাশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের কিছু বিবৃতিতে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু আগ্রাসনের স্পষ্ট নিন্দা করা হয়নি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেবে। অন্যান্য দেশ যেমন- পাকিস্তান, তুরস্ক এই হামলার নিন্দা করেছে এবং সংলাপ ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে হামের টিকাদান কর্মসূচি
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা হলো, যখন কোনো দেশ জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে অন্য দেশের ওপর আগ্রাসন চালায়, তখন অন্য দেশগুলো স্পষ্টভাবে এর নিন্দা জানাবে। আমরা শুধু চাই আমেরিকা ও ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালিয়েছে, তা নিন্দা করা হোক। এর বাইরে আমাদের আর কোনো দাবি নেই।
পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, বাংলাদেশের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে আমরা তা বুঝি। কিন্তু এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিলে ভালো হয়।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদূত বলেন, রাশিয়া মুসলিম দেশ নয়, তবুও আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। চীনও। এই কারণে, আমরা তাদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞ। চীন এবং রাশিয়া এই আগ্রাসনের নিন্দা করেছে। স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশও সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, আমরা এই হামলার সমর্থন করি না।
বাংলাদেশকে বন্ধু ও ভাতৃপ্রতীম দেশ উল্লেখ করে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস যদি কোনো তালিকা দেয়, আমরা তাদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সহযোগিতা করব।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অস্ত্র ও অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে ওয়াশিংটন ভিন্ন কৌশল নেয় এবং চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাজয় স্বীকার করাতে চায়। একইসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের নিন্দা জানান এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
আইও/