বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


কওমি শিক্ষার্থীদের হাতে চার লক্ষ টাকার কিতাব তুলে দিলো হাফেজ্জী হুজুর সেবা ফাউন্ডেশন


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: রাকিবুল হাসান

|| যাকারিয়া মাহমুদ || সাব-এডিটর

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য স্থানে মানবসেবার কথা বলেছেন। তাঁর রাসুল সা. সারাজীবনের কর্মতৎপরতায় উম্মতকে দিখিয়ে গেছেন এর অগণিত দৃষ্টান্ত।

আল্লাহর সেসব বাণী ও রাসুলের আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতেই মাঠে নেমেছে হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন। জনমানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ—একঝাঁক আলেমের হাত ধরে এই সংগঠন পরিচালিত। সংগঠনটির সেবার এই বহুমুখী ধারায় যুক্ত হয়েছে আগামীর জ্ঞানসাধকদের সহায়তা। গত চার বছর ধরে কওমি মাদরাসার গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে কিতাব বিতরণ করে আসছে সংগঠনটি। 

তারই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়, কিতাব বিতরণী কর্মসূচি। সংগঠনের মুখপাত্র মাওলানা রজীবুল হক জানান, ‘এবার দাওরায়ে হাদিস, মেশকাত, জালালাইন, শরহে বেকায়া ও অন্যান্য জামাতের মেধাবী ও গরিব ছাত্রদের মাঝে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার কিতাব বিতরণ করা হয়েছে। আগামীতে আমরা আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন করব ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে, লেখক ও ইসলামি গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বহুমাত্রিক মানবসেবা মূলক কাজ করে আসছে হাফেজ্জী হুজুর সেবা ফাউন্ডেশন। আমার কামনা থাকবে আরও ব্যাপক ভাবে আলেমগণ এসব  কাজে আসবে।  যাতে করে মানুষ তাদের দ্বারা উপকৃত হতে পারে। 

বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ ও মুহাদ্দিস মাওলানা হিফজুর রহমান কবি ইকবালের এক পঙক্তি টেনে বলেন, আমি আমাদের ছাত্রদের বলব, তোমাদের প্রত্যেককে এই মানবসেবার কাজের জন্য তৈরি হতে হবে। কারণ, দেশের জনসংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এখন অবস্থার পরিবর্তন চাই।  

বরেণ্য লেখক ও কথাসাহিত্যিক মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন বলেন, উলামায়ে দেওবন্দের একটা আদর্শিক চেতনা হলো, তারা নিজেরা সবকিছু না করতে পারলেও যারা ভালো কাজ করেন, তাদের পাশে থাকেন, সাহস জোগান। এটা ইসলামেরও মৌলিক আদর্শগুলোর একটি। 

কারা-নির্যাতিত আলেম মাওলানা জসীমুদ্দীন রাহমানি তার কারাবরণের চিত্র তোলে ধরে বলেন, মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজ ছাড়া তারা চলতে পারে না। কারাবরণের একযুগে বিষয়টা আমি খুব ভালোভাবে অনুভব করেছি।

মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সুরা তীনে—চার-চারটি কসম করে বলেছেন, আমি মানুষকে সবচে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছি। তাই বলার অবকাশ রাখে না মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কতখানি! আর এই শ্রেষ্ঠ জীবের সেবা করাটাও শ্রেষ্ঠ কাজ। 

জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হাসান ছাত্রদের উপদেশ দিয়ে বলেন, ছাত্রভাইয়েরা, তোমরা কিতাবগুলোর হক আদায় করে পড়বে, হাশিয়া, বাইনাস সুতুর ইত্যাদি ধরে ‍ধরে পড়বে। নিজে পড়বে, অন্যদের সুযোগ করে দেবে। পড়া শেষ হওয়ার পর বেশি বেশি মুতালাআ করবে। যারা তোমাদের কিতাবগুলোর ব্যস্ত করছের, তোমরা ঠিকঠাক কিতাবগুলো পড়লেই তাদের হক আদায় হবে।  

কিতাব বিতরণী এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া শাহী মসজিদের খতিব ও সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা মাসরুরুল হক, মোহম্মদপুর মিনার মসজিদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বিশিষ্ট দাঈ মুফতি মুজিবুর রহমান ও দেশবরেণ্য আলেমগণের অনেকে। 

হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন—কেবল একটি সংগঠন নয়; বরং অসংখ্য অসহায়ের ভরসার স্থল। অসহায় চাই আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী হোক কিংবা দেশের আকস্মিক বন্যায় ভেসে যাওয়া জনপদ—যেখানেই শোনা যায় তৃষ্ণার্তের  আর্তনাদ, সেখানেই পৌঁছে যায় এই সংগঠনের একঝাঁক আলেম। সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা তাদের মানুষের পাশে থাকার। দেশের নওমুসলিম থেকে শুরু করে সুদূর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের এই নিঃস্বার্থ সেবার হাত। 

হাফেজ্জী হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, মানুষের সেবা করাই হলো মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের সহজ পথ। কিতাব হাতে এক একজন শিক্ষার্থী যখন আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে, তখনই সার্থক হবে এই শ্রম। আসুন, এই মানবিক পথচলায় আমরাও শামিল হই।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ