রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৯ সফর ১৪৪৮


কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ||

কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা একটি মহৎ আমানত। তাই যেখানে-সেখানে বা হুট করে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয়। একটি ছোট কক্ষ ভাড়া করে সংকীর্ণ পরিসরে 'জামিয়া' বা 'মাদরাসা' নামে প্রতিষ্ঠান চালু করাও সমীচীন নয়। সর্বোচ্চ এটিকে একটি কোচিং সেন্টার বলা যেতে পারে।

মাদরাসা প্রতিষ্ঠার আগে সর্বপ্রথম আবাসন ও ক্যাম্পাসব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মাদরাসা শুধু শহরেই হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং বাংলাদেশের যেকোনো অঞ্চলে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামেও যদি ৮–১০ একর বা পর্যাপ্ত জমির ওপর সুপরিকল্পিত ও আবাসিক একটি মাদরাসা গড়ে তোলা যায়, তাহলে অল্প সময়েই ইনশাআল্লাহ সেটি একটি মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। বাস্তবে এর বহু সফল দৃষ্টান্ত রয়েছে।

নিঃসন্দেহে ছাত্রদের মধ্যে শহরের মাদরাসার প্রতি একটি স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকে, অনেক শিক্ষকও শহরে অবস্থান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, গ্রামাঞ্চলেও যদি পর্যাপ্ত জায়গা, উন্নত আবাসন, মনোরম পরিবেশ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাসহ একটি পরিকল্পিত মাদরাসা গড়ে তোলা যায়, তাহলে ছাত্র-শিক্ষক উভয়েই সানন্দে সেখানে অবস্থান করেন। তাই শুরু থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বৃহৎ পরিসরকে সামনে রেখে কাজ করা উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মাদরাসা প্রতিষ্ঠার আগেই অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামকে নিয়ে একটি শক্তিশালী মজলিসে শূরা গঠন করতে হবে। তাদের পরামর্শ, তত্ত্বাবধান ও অভিজ্ঞতাই একটি প্রতিষ্ঠানকে সুসংগঠিত, টেকসই ও আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারে।

আর যদি এ ধরনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও সক্ষমতা না থাকে, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে নতুন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা থেকে বিরত থাকুন। কারণ একটি দুর্বল ও অপরিকল্পিত প্রতিষ্ঠান শুধু সংশ্লিষ্টদেরই নয়, গোটা উম্মতের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

যারা বৃহৎ পরিসরে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন, আমাদের সাধ্য অনুযায়ী আমরা তাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ!

লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ