মুস্তাকিম আল মুনতাজ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার অভিযোগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির এবং কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা নুরে আলম হামিদী।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের গঠনতন্ত্র ও দলীয় শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দায়ে মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির ও মাওলানা নূরে আলম হামিদীকে দলের সকল সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে আমেলার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই নেতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির চট্টগ্রামের হাটহাজারী আসন থেকে এবং মাওলানা নুরে আলম হামিদী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল আসন থেকে ‘রিকশা’ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলীয় জোটের চলমান আসন সমঝোতার প্রক্রিয়ায় এই দুই প্রার্থীও সমর্থন পেতে পারেন।
এদিকে, বহিষ্কারের সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী ভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিনি বহিষ্কৃত নন; বরং এর আগেই স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে সম্পৃক্ত ছিলাম। ব্যক্তিগত কারণবশত গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ঈসায়ি তারিখে স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগ করি এবং আমার পদত্যাগপত্র যথাযথভাবে দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের নিকট প্রেরণ করি।”
তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে—এমন একটি নোটিশ দেখতে পাই, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমি মনে করি, এটি আমার প্রতি চরম অবিচার।”
ঘটনাটি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রচারণার নিন্দা জানাচ্ছি। ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা রেখে এর বিচার আমি আল্লাহ তাআলার দরবারে সোপর্দ করলাম। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ও বাইরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এনএইচ/