গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ তথা সংবিধান সংস্কার পরিষদের উপর ন্যাস্ত। কিন্তু সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে চলতি অধিবেশনে পর্যন্ত যা যা হয়েছে, তাতে জনগণ হতাশ। ইতোমধ্যে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। শপথের সময় থেকে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বিরত থাকার কারণে এই সংকটের শুরু হয়েছে। অবৈধ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতারণা বলে জুলাই জাতীয় সনদকে বিএনপি সরকার অবমূল্যায়ন করছে। সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত—‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তাগণ।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মূল বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব—ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে বক্তাগণ আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের অর্থ হলো, জনগণের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে নয়; বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই—জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ সরাসরি কার্যকর করুন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে নির্ধারিত সময়ে কাজ সুসম্পন্ন করুন। গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫-এর কার্যকারিতা সচল করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি না-মানলে জনগণ আবারও গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির—মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান (এমপি), এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীর বীক্রম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল—অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বিডিপির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ ফায়সাল, লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ডক্টরস সোসাইটি অব বাংলাদেশ সভাপতি ডা. আবদুল্লাহ খান, ঢাকা সিটি কলেজ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহীর অন্যান্য সদস্যসহ বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও পেশাজীবীবৃন্দ।
জেডএম/ যাকারিয়া মাহমুদ
